শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ গ্রহণ করেছেন জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক ও নির্মাতা কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত)। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।
এর আগে গত ৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে হানিফ সংকেতকে এই সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পুরস্কার গ্রহণের পর সামাজিক মাধ্যমে নিজের এই প্রাপ্তির অনুভূতি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন বরেণ্য এই ব্যক্তিত্ব।
পুরস্কার প্রাপ্তির আনন্দ ভাগ করে নিতে গিয়ে এর আগে এক হানিফ সংকেত ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, সুহৃদ, আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এ বছর আমাকে সংস্কৃতিতে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেছেন। এই অর্জন আমার একার নয়- যাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমার এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হয়েছে, এই অর্জন তাদের সবার। আজকের এই আনন্দের দিনে আমি তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই পুরস্কার আমি আমার লক্ষ-কোটি দর্শকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি।
এই গুণী ব্যক্তিত্ব আরও লিখেছেন, আমি বিশ্বাস করি, সুস্থ সংস্কৃতিই পারে একটি সমাজকে আলোকিত করতে এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে। আমৃত্যু আমি সুস্থ সংস্কৃতির চর্চায় দেশের জন্য কাজ করে যেতে চাই।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, অতীতেও আমি যেমন : দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যাব। এই পুরস্কার আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে আরও উৎসাহিত করবে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।
প্রসঙ্গত, হানিফ সংকেত বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক কিংবদন্তি। তিনি একাধারে উপস্থাপক, পরিচালক, লেখক, প্রযোজক, গায়ক, সুরকার ও গীতিকার। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তুলে ধরছেন। সামাজিক অসংগতি নিয়ে তার তীক্ষ্ণ অথচ মার্জিত হাস্যরস দর্শকদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত।
ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অভিনয় জগতেও হানিফ সংকেতের বিচরণ ছিল প্রশংসনীয়। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নির্মাণে ‘কুসুম’ নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়া চলচ্চিত্র অঙ্গনে ১৯৮৮ সালে ‘আগমন’ সিনেমায় খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের চমকে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ‘চাঁপা ডাঙার বউ’ এবং ‘ঢাকা-৮৬’ এর মতো জনপ্রিয় সিনেমাগুলোতেও তাকে দেখা গেছে।
সময়ের আলো/আআ