ইইউর সঙ্গে সম্পর্কে নতুন পালক যুক্ত হচ্ছে

এমএকে জিলানী

জাতীয়

ইউরোপের ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি (হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ) কাজা কালাসের সঙ্গে আগামী ২০ এপ্রিল ব্রাসেলসে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে

2026-04-18T01:05:58+00:00
2026-04-18T01:05:58+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
অংশীদারত্ব সহযোগিতা চুক্তি
ইইউর সঙ্গে সম্পর্কে নতুন পালক যুক্ত হচ্ছে
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৫ এএম 
প্রতীকী ছবি
ইউরোপের ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি (হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ) কাজা কালাসের সঙ্গে আগামী ২০ এপ্রিল ব্রাসেলসে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড, খলিলুর রহমান। এই বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে অংশীদারত্ব সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) প্রাথমিক সংস্করণ স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই চুক্তি স্বাক্ষর হলে তা হবে এশিয়ায় বাংলাদেশ প্রথম, এর আগে এশিয়ার আর কোনো দেশ ইইউর সঙ্গে পিসিএ চুক্তি করেনি। শুধু তাই নয় এই চুক্তি স্বাক্ষর হলে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উত্তীর্ণ হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আন্তালিয়া কূটনীতি ফোরামে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার সকালে তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। তিন দিনব্যাপী এই ফোরামে অংশ নেওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে ব্যাপক অংশীদারত্ব ও সহযোগিতাবিষয়ক কাঠামো চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের উদ্দেশে রওনা হবেন। দেশে ফেরার পথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় যাত্রাবিরতি করবেন বলে আশা করা হচ্ছে এবং আগামী ২৪ এপ্রিল তিনি দেশে ফিরবেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে যাচ্ছে। শুরুতে দুই পক্ষের সম্পর্ক দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও গত ৫০ বছরে এই সম্পর্ক রাজনৈতিক পর্যায়ে উন্নীত হয়। দুই পক্ষের সম্পর্ক ২০২২ সালে রাজনৈতিক পর্যায়ে উন্নীত হয়। এই সম্পর্কে আরও দৃঢ়, অংশীদারত্ব এবং সহযোগিতামূলক পর্যায়ে উন্নীত করতে দুই পক্ষই পিসিএ করতে অঙ্গীকার করেছে। পিসিএ চুক্তি মূলত দুই পক্ষের মধ্যে একটি আইনগত সমঝোতা। যার মাধ্যমে দুই পক্ষই বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু, ইন্দো-প্যাসিফিকসহ সম্পর্কের সব বিষয়ে সহযোগিতার জন্য চুক্তি করবে। এই চুক্তির খসড়া নিয়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরে দুই পক্ষের ঢাকায় প্রথমবারের মতো আলোচনা শুরু হয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে মোট পাঁচবার বৈঠক হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে উভয় পক্ষ পিসিএ চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করে এবং আগামী ২০ এপ্রিল এই চুক্তির প্রাথমিক প্রক্রিয়া স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্ত হয়। প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য দিনক্ষণ ঠিক করা হবে।
আরও পড়ুন

শেষ পর্যন্ত ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশ পিসিএ চুক্তি চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশ হবে এশিয়ার স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে প্রথম রাষ্ট্র যারা সবার আগে ইউরোপের ২৭ দেশের জোটের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পাদন করছে। সবশেষ মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ড ইইউর সঙ্গে পিসিএ চুক্তি সম্পাদন করেছে। এই চুক্তি হলে বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যের বাজার অনেক বড় হবে। সুবাতাস পাওয়া যাবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও। পাশাপাশি ইউরোপের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে উৎপাদনমুখী কার্যক্রম নিতে উৎসাহ পাবে। এ ছাড়া ইউরোপের বাজারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের আরও একাধিক বাজারে প্রবেশ করার সুযোগ নিতে পারবে।

ইইউ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৪ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ২২.২ বিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশের রফতানির প্রায় ৪৪-৫০ শতাংশ যায় ইইউতে, যার মধ্যে ৯৪ শতাংশই তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল। বাংলাদেশ বর্তমানে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ইবিএ (এভরিথিং বাট আর্মস) সুবিধায় শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।

পিসিএ মূলত একটি বিস্তৃত ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি, যা সরাসরি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নয়, তবে এটি বাণিজ্য-বিনিয়োগ সহযোগিতাকে অনেক শক্তিশালী করবে। এই চুক্তি হলে দুই পক্ষের মধ্যে স্থিতিশীল আইনি কাঠামোর আওতায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কাস্টমস সহযোগিতা, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকার, মানসম্মতকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়বে।

ইইউ কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ হবে। শ্রম অধিকার, পরিবেশগত মান, সার্কুলার ইকোনমি, গ্রিন এনার্জি, ডিউ ডিলিজেন্স ইত্যাদি ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতা বাড়বে। শুধু তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত নয় কৃষি, ফিশারিজ, আইটি, ফার্মাসিউটিক্যালসসহ একাধিক খাতে রফতানি বাড়ানোর সুযোগ বাড়বে। এই চুক্তি হলে ইইউর বিনিয়োগ আরও আকৃষ্ট হবে, বিশেষ করে গ্রিন ফ্যাক্টরি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ইত্যাদি খাতে। তবে এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর মানবাধিকার, শ্রম অধিকার, সুশাসন ইত্যাদি শর্ত পূরণ না হলে বাণিজ্য সুবিধা প্রভাবিত হতে পারে। অন্যদিকে ঢাকার পক্ষ থেকে পিসিএ চুক্তির পাশাপাশি ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা সেপা (কমপ্রিহেন্সিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) চুক্তির আলোচনা শুরু করতে চায়।

ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সফর করেন। তখন তিনি বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর সাধারণ অংশীদারত্ব চুক্তির আওতায় সম্পর্ক পরিচালনার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে সমন্বিত অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পিসিএ চুক্তি দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় সুযোগ তৈরি করবে।

অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, পিসিএ চুক্তি হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হবে। কেননা ইউরোপের দেশগুলোর এই জোট বাংলাদেশের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। এই হিসাবে ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইইউর সঙ্গে পিসিএ চুক্তি হলে বাংলাদেশ ইউরোপের মাধ্যমে অন্যান্য পশ্চিমা দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, ইইউর সঙ্গে এই চুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তিটি হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজ হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। মূলত চুক্তিটি হলে বাংলাদেশের ট্রেডবডি বেনিফিটেড হবে।

এএডি/


  বিষয়:   চুক্তি  ইইউ  সম্পর্ক 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: