ফুটপাথে চলছে কানামাছি খেলা

সমীরণ রায়

জাতীয়

ঢাকার ফুটপাথ নিয়ে যেন কানামাছি খেলা চলছে। একদিকে ফুটপাথ ও সড়কের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়, পরক্ষণেই আবার তারা বসে

2026-04-19T01:56:33+00:00
2026-04-19T02:15:12+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
সকালে উচ্ছেদ বিকালে দখল
ফুটপাথে চলছে কানামাছি খেলা
সমীরণ রায়
প্রকাশ: রোববার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫৬ এএম  আপডেট: ১৯.০৪.২০২৬ ২:১৫ এএম
সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে উচ্ছেদ অভিযান চালায় প্রশাসন। সংগৃহীত ছবি
ঢাকার ফুটপাথ নিয়ে যেন কানামাছি খেলা চলছে। একদিকে ফুটপাথ ও সড়কের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়, পরক্ষণেই আবার তারা বসে পড়ে। সকালে উচ্ছেদ করা হলে বিকালেই হকাররা তাদের সাম্রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। প্রশ্ন হচ্ছে, যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা ফুটপাথ নিয়ে এ কানামাছি খেলার অবসান কবে হবে? 

সম্প্রতি ঢাকার ফুটপাথগুলো হকারদের কাছ থেকে দখলমুক্ত করার পর তা যথারীতি বেদখল হয়ে গেছে। রাজধানী ঢাকার ফুটপাথগুলো আবার দখলে নিয়েছে অবৈধ দখলদাররা। ফুটপাথ যেন হকারদের দখলে। শুধু হকার কেন? রাস্তার দুই পাশের ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যসামগ্রী ফুটপাথে রেখে দখলে নিয়েছেন। একই সঙ্গে বাস টার্মিনালগুলোর আশপাশের এলাকায়ও ফুটপাথ দখল করে অবৈধ টিকেট কাউন্টার বসানো হয়। 

সম্প্রতি রাজধানীতে ফুটপাথ ও সড়কে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এই উচ্ছেদ অভিযানে জরিমানাও আদায় করা হয়। এ পদক্ষেপ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ ও বয়স্কদের জন্য ছিল স্বস্তির বিষয়। কিন্তু অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও জরিমানা আদায়ের কার্যক্রম শেষ হতে না হতেই আবারও তা অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে গেছে।

 যথারীতি রাস্তার দুই পাশের ফুটপাথে দোকানপাটের পণ্যসামগ্রী রেখে ফুটপাথ দখল করে নেওয়া হয়েছে। এতে করে রাজধানীর বেশিরভাগ ফুটপাথে হাঁটার সুযোগ কমে গেছে। এ কারণে পথচারীদের ফুটপাথ ছেড়ে নামতে হয় সড়কে। অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হন। একই সঙ্গে তা হয়ে উঠছে যানজটের কারণও। সব মিলিয়ে ফুটপাথ নিয়ে নগরবাসীর দুর্ভোগ 
কাটছে না। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় ফুটপাথগুলোয় ফুটপাথ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ডিএমপি ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন যৌথ উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। ফুটপাথের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও জরিমানা করা হয়। অনেককে সতর্ক করে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়ে অভিযান শেষ করা হয়। 

তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন সতর্কতার পরও কোনো ধরনের কর্ণপাথ নেই দখলদারদের। আর নির্দেশনার পর নেই তদারকিও। বরং উচ্ছেদের পর আবারও অবৈধ দখলদাররা স্ব স্ব স্থানে বসেছেন। এতে ফুটপাথ দিয়ে জনসাধারণের হাঁটার পথটুকুও বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, গত ১ এপ্রিল থেকে ডিএমপি ও ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ফুটপাথ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। এতে নগরবাসীর জন্য যে স্বস্তির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল তা উবে গেছে। রাজধানীর নিউমার্কেট, মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, সায়েদাবাদ, ধোলাইখাল, ফার্মগেট এলাকার ইন্দিরা রোড, গ্রিনরোড, আনন্দ সিনেমা হল, পান্থপথ, কারওয়ান বাজার, আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিস, সমাজসেবা অধিদফতর, পরিবেশ অধিদফতরের সামনের অংশ, গুলশান, মিরপুর ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিতভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরিয়ে দেওয়া হয় সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে থাকা অস্থায়ী দোকানগুলো। 

কিন্তু সকালে উচ্ছেদ করার পর বিকালেই সেখানে আবার হকাররা পসরা নিয়ে বসেন। বর্তমানে গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম ও মতিঝিল এলাকায় ফুটপাথের বড় অংশজুড়ে আবারও বসেছে ভ্রাম্যমাণ দোকান। রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় ফুটপাথ দখল করে ভাসমান ব্যবসায়ীরা আগের মতোই আবারও বসে পড়েছেন। গোলাপ শাহ মাজারের সামনের রাস্তায় পূর্বে আবার স্থায়ী চৌকি ও ভ্যানগাড়ি বসিয়ে হকাররা ব্যবসা করছেন। হকাররা চাকা লাগানো দোকানগুলো গুলিস্তান শহীদ মতিউর পার্কে টাকার বিনিময়ে রাখেন। উচ্ছেদ অভিযান শেষ হলে আবার রাস্তা-ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা শুরু করেন ভ্রাম্যমাণ হকাররা। পোশাক, জুতা, মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ, খাবারসহ নানা পণ্য নিয়ে তারা আগের মতোই বসে গেছে ফুটপাথে। 

রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের ফুটপাথজুড়ে সারি সারি দোকান। নানা পণ্যের সমাহারে সেজেছে রং-বেরঙের দোকানগুলো। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে সবকিছুই আছে। আর চলার পথে এসব দোকানে ভিড় জমান ফুটপাথ ধরে হেঁটে চলা পথচারীরা। এতে যানবাহনসহ সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ঘটলে দ্রুত ভেঙে ফেলা হয় টং দোকান, ভ্রাম্যমাণ স্টল ও অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলে গেলেই ফের দখল করে নেওয়া হয় ফুটপাথ আর রাস্তার অংশভাগ। অর্থাৎ ফুটপাথে নগরবাসীর ভোগান্তি কোনোভাবেই শেষ হচ্ছে না।

ফুটপাথের ব্যবসায়ীদের ভাষ্য হচ্ছে- তাদের পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে তারা কোথায় যাবে। ফুটপাথে ব্যবসা করে তাদের সংসার চলে। এভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সমাধান হয় না। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে তারা কোথায় যাবে। 

হকাররা বলেন, এভাবে কি কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব? আমরা এখান থেকে অবশ্য চলে যাব। আমাদের বসার জায়গা দেওয়া হোক। আবার কেউ কেউ বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন উচ্ছেদ অভিযানে এসেছিল। তারা সবাইকে এখান থেকে চলে যেতে বলেছেন। উচ্ছেদ করেনি, সতর্ক করে গেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হকার বলেন, ফুটপাথ দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে কার্যকর পরিকল্পনা, কঠোর বাস্তবায়ন ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করে। এই উচ্ছেদ অভিযান মনে হয় শুধুই লোক দেখানো। কারণ আমরা যতটুকু জানি ফুটপাথগুলো স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দখলে থাকে। সে কারণে কি কাউকে সুযোগ করে দিতে এই উচ্ছেদ অভিযান। আর যদি তাই না হয়, তা হলে আবার তারা নতুন করে ফুটপাথ দখল নেয় কী করে? 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানী ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। আবারও ফুটপাথগুলো দখলে চলে যায় হকারদের। এখানে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পুনরায় বসার সুযোগ পান হকার ও অবৈধ দখলদাররা। এর প্রধান কারণ পরিকল্পনার অভাব, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল তদারকি। শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন একটি সমন্বিত পরিকল্পনা, যেখানে হকারদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি ফুটপাথ ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে। একই সঙ্গে রয়েছেন কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের মদদে ফুটপাথ দখল আবার ফিরে আসে। হকারদের কাছ থেকে তাদের নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে উচ্ছেদ অভিযান কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এই উচ্ছেদ অভিযানের লক্ষ্য ফুটপাথ ও সড়ক দখলমুক্ত করা, যানজট কমানো এবং পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখা। এই উদ্যোগের ফলে এলাকাগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের অবসান ঘটবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অভিযান শেষ হতে না হতেই আবারো ফুটপাথ ও সড়কের পাশে বসতে শুরু করে হকাররা। উচ্ছেদের পরপরই ধীরে ধীরে হকারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

ফুটপাথের কাপড় ব্যবসায়ী সিকিন্দার আলী বলেন, সরকার আমাদের বসার জন্য একটা ব্যবস্থা না করে দিয়ে এভাবে উচ্ছেদ অভিযান করছে। আমরা কোথায় যাব? আমাদের দিকটাও তো সরকারকে দেখতে হবে। আমাদের আগে বসার জায়গা দিক। তারপর উচ্ছেদ করুক। আর তা না করলে পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াব। কী করে সংসার চলবে।

রাজধানীর গুলিস্তানের একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন সোহাগ। তিনি বলেন, আমার যেহেতু কর্মস্থল গুলিস্তান। তাই প্রতিদিন অফিসে যাওয়া আসা করতে হয়। কিন্তু হকারদের উৎপাথে হাঁটাই মুশকিল। সকালের দিকে অফিসে আসতে তেমন কোনো বেগ পেতে হয় না। কিন্তু বিকালে যখন অফিস থেকে বের হই তখন আর হাঁটার অবস্থা থাকে না। সম্প্রতি এই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। আমি স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু আবার স্ব স্ব স্থানে সবাই বসে গেছেন। ফলে পুরোনো চেহারায় ফিরেছে গুলিস্তান। এখন ফুটপাথ দিয়ে হাঁটা যায় না। হকাররা এমনভাবে বসে যে চলাচলের কোনো জায়গাই থাকে না। এই ফুটপাথ তো জনসাধারণের জন্য। কিন্তু আমরা তো ব্যবহার করতে পারি না।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকা শহরে হকার নিয়ে শত শত কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয় ঠিকই। কিন্তু পরক্ষণেই প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় আবার হকাররা বসে যান। এখন প্রয়োজন হকারদের নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা। পরিকল্পনা ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান কোনো কাজে আসবে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, নগরবাসীর জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ডিএসসিসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফুটপাথ দখলকারীদের উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। আমরা সমন্বিতভাবে এই অভিযান চালিয়ে যাবো। পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুটপাথ দখলমুক্ত করা হবে। যেসব এলাকায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, তারা পুনরায় বসলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। একই সঙ্গে হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও আমরা সমন্বিতভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুটপাথ দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঢাকার সড়কে দুর্ঘটনায় নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি পথচারী। তাই পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুটপাথ দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পেলে দ্রুত সময়ে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, রাজধানীর ফুটপাথ উদ্ধার অভিযান নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। অস্বীকার করি না যে, আমরা একদিকে পরিষ্কার করি তারা আবার অন্যদিকে বসে পড়ে। আমরা এটা রেগুলার মনিটর করার চেষ্টা করব। আমাদের জনবল কম আছে। যদি মানুষ সচেতন না হয়, যদি লোকাল কমিউনিটি আমাদের হেল্প না করে তা হলে শুধু একা কাজটা করা সম্ভব না। এখানে সবাই ব্যবসায়ী। ব্যবসা কিন্তু একটা দেশের অর্থনীতির জন্য একেবারে অপরিহার্য। তবে ব্যবসা বাণিজ্য যা-ই করেন না কেন, মানুষের দুর্ভোগ বা হয়রানি সৃষ্টি করতে পারেন না। অ্যাকশনেই নেমেছি। এই অভিযান চলতেই থাকবে।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   ফুটপাথ  কানামাছি খেলা  উচ্ছেদ  দখল 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: