দেশের অর্থনীতির অবস্থা আগে থেকেই ভালো না। নতুন বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও চলছে একরকম স্থবিরতা। ভোগ্যপণ্যের বাজারেও নেই স্বস্তি। ব্যাংক-শেয়ারবাজারের পরিস্থিতিও ভালো না। গত মাসে রফতানি আয় কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে গত দেড়-দুই মাস ধরেই সারা দেশে চলছে মহা সংকট। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার গত শনিবার দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের এই দাম বৃদ্ধির প্রভাবে জ¦লতে হবে সব খাতকে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের কাছে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ ছিল না- এটি যেমন সত্য, ঠিক তেমনই অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা ঠেকাতে হবে এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করবে। একই সঙ্গে দেশের কৃষি উৎপাদন যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয় সে দিকটিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
কারণ কৃষি বাধাগ্রস্ত হলে খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাহত হবে। আর খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দেবে। সে পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয় সে দিকটিতে সরকারকে জোর দিতে হবে।
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গত শনিবার দেশে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। রোববার থেকে সারা দেশে নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের নতুন দাম-অকটেন প্রতি লিটার ১৪০, পেট্রোল প্রতি লিটার ১৩৫ ও কেরোসিন প্রতি লিটার ১৩০ এবং ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা।
এর আগেও গত ৩১ মার্চ আরেক দফা দাম বাড়িয়ে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম লিটার ১০০ টাকা, কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১১২, পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১১৬ ও অকটেনের দাম ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এ দামে বিক্রি হয়েছে জ্বালানি তেল।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরদিনই রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এক ধাক্কায় বাড়ানো হয়েছে প্রতি কেজিতে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) রোববার এক আদেশে বলেছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এপ্রিল মাসের জন্য এ দর ঠিক করা হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দর কার্যকর হয়। এর আগে গত ২ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তে আরও ২১২ টাকা বেড়ে যাওয়ায় এক মাসেরও কম সময়ে এ সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৫৯৯ টাকা।
জ্বালানি তেলের এই দাম বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর। কারণ বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বাড়বে। আর পরিবহন খরচ বাড়লে চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ-মাংস সবকিছুর দাম বাড়ে। এটিকে বলে ‘কস্ট-পুশ ইনফ্লেশন’। দূর থেকে আসা পণ্য যেমন- পেঁয়াজ, আলুসহ সব ধরনের সবজিজাতীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকৃত পণ্য বা আমদানিকৃত পণ্য সবকিছুর দাম বেড়ে যাবে। ফলে মধ্যবিত্তের মাসিক বাজেটে টান পড়বে, জীবন হয়ে পড়বে ঋণনির্ভর।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সবার আগে পড়ে পরিবহন খাতের ওপর। গণপরিবহন যেমন- বাস, ট্রাক, লঞ্চ, ট্রেনের ভাড়া বেড়ে যায়। ডিজেলচালিত বাস-ট্রাক সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়। ব্যক্তিগত যানবাহন যেমন- মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারের যাতায়াত খরচ বাড়ে। রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়াও বাড়বে। পণ্য পরিবহন যেমন- ভোগ্যপণ্য, কাঁচামাল ও তৈরি পণ্য আনা-নেওয়ার খরচ বাড়ায় সব জিনিসের দাম বাড়বে।
প্রভাব পড়বে কৃষি খাতের ওপর। ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে সেচ দেওয়া কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। চলতি বোরো মৌসুমে প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন- ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার চালানোর খরচ বাড়বে। শুধু তাই নয়, সার ও কীটনাশকজাতীয় পণ্য কারখানায় উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ায় দাম বাড়বে। ফলে একদিকে যেমন কৃষির উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, তেমনই কৃষক পণ্য উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে খরচের ভয়ে।
জ¦ালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে শিল্প ও উৎপাদন খাত বড় রকমের ধাক্কা খাবে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন যেমন- ডিজেল-ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের খরচ বাড়বে, ফলে লোডশেডিং বা বিদ্যুতের দামও বাড়তে পারে। এ ছাড়া শিল্প কারখানা যেমন- পোশাক শিল্প, স্টিল, সিমেন্ট ও সিরামিক্সসহ জ্বালানিনির্ভর শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়বে। অনেক কারখানার নিজস্ব জেনারেটর চলে ডিজেলে- তাদের খরচ বাড়বে। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই খাতের ছোট কারখানা, বেকারি, ওয়েল্ডিং শপগুলো জেনারেটরের খরচ মেটাতে হিমশিম খাবে।
জ¦ালানির অভিঘাত থেকে রেহাই পাবে না সেবা খাতও। যেমন বিমান চলাচলে জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে টিকেটের দাম বাড়বে। হোটেল-রেস্টুরেন্টে রান্নার গ্যাস, জেনারেটর খরচ বাড়ায় খাবারের দাম বাড়বে। নির্মাণ খাতে রড, সিমেন্ট, ইট পরিবহন ও রোড রোলার ও মিক্সার মেশিন চালানোর খরচ বাড়বে।
জ¦ালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব যে শুধু বেসরকারি খাতের ওপরই পড়বে তা নয়, এর ফলে সরকারি ব্যয় যেমন বাড়বে তেমনই সামষ্টিক অর্থনীতি চাপে পড়বে। বিশেষ করে ভর্তুকির ওপর চাপ বাড়বে। দাম না বাড়ালে সরকারের ভর্তুকি বাড়ে, বাজেট ঘাটতি হয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হবে জ¦ালানির দাম বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাবে। সামগ্রিকভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে, জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়বে। এ ছাড়া জ¦ালানির দাম বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়বে। কেননা তেল আমদানিতে ডলার বেশি খরচ হলে রিজার্ভের ক্ষয় দ্রুত হবে।
সার্বিক বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করায় অর্থনীতির বিভিন্ন জায়গায় এর অভিঘাত পড়বে। বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে, বেশি ব্যয় করতে হবে। পরিবহন খাত হোক, আমদানি-রফতানি খাত হোক- যেখানেই জ¦ালানির ব্যবহার সেখানেই অভিঘাত পড়বে। আবার যেসব খাত বেশি জ্বালানিনির্ভর সেগুলোর ওপর বেশি প্রভাব পড়বে। তিনি আরও বলেন, আগে থেকেই দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। এই অবস্থার মধ্যে আয় বাড়িয়ে, বিনিয়োগও নেই। এ কারণে মানুষের আয় এক জায়গায় স্থির হয়ে আছে।
ফলে জ¦ালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্তের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। যদিও সরকার অনেক চেষ্টা করেছে দাম না বাড়ানোর, যেহেতু অনিশ্চয়তা বেড়েছে সে কারণেই দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। তবে সরকার যদি বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নতি করতে পারে, ভোগ্যপণ্যের বাজারে যদি তদারকি বাড়িয়ে ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার মনোভাবে ঠেকাতে পারে এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে যেটুকু পরিবহন ব্যয় বাড়ানো দরকার সেটুকুই যেন বাড়ে সেটি তদারকি করতে হবে। তা হলে হয়তো সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
এ বিষয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সময়ের আলোকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে অন্যান্য খাতের মতো শিল্প খাতেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সবার আগে আমাদের পণ্যের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে পণ্যের মূল্য বেড়ে যাবে। অথচ ক্রেতার সঙ্গে ইতিমধ্যেই আমাদের পণ্যের রফতানি মূল্য চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। এখন আমরা তাদের বলতে পারব না যে, দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে- তোমরা মূল্য বাড়াও। সুতরাং আমাদের লোকসান দিয়ে পণ্য রফতানি করতে হবে। হয়তো নতুন করে যেসব অর্ডার আসবে সেগুলোর মূল্য বৃদ্ধির কথা আমরা বলব, কিন্তু সেখানেও সমস্যা আছে। যদি মূল্য বাড়ানো হয় তা হলে হয়তো তারা আমাদের বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।
মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, সরকারের সামনে হয়তো জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। তবে মূল্য বৃদ্ধি পেলেও আমরা জ¦ালানি তেল যেন ঠিক মতো পাই- সেটি নিশ্চিত করতে হবে। যদি জ্বালানি ঠিক মতো না পাই তা হলে শিল্পের উৎপাদন হবে না ঠিক মতো। উৎপাদন না হলে শ্রমিকদের বেতন দিতে পারব না, ব্যাংকের টাকা দিতে পারব না- শেষ পর্যন্ত কারখানা বন্ধ হবে, শ্রমিক বেকার হবে। আর গার্মেন্টস শ্রমিকরা বেকার হলে সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাই সংকটকালীন এই সময় কোনোভাবেই যেন শিল্পের চাকা থেমে না যায়।
এ বিষয়ে ভোজ্য তেল মিল মালিকদের সংগঠনের সভাপতি ও টি কে গ্রুপের গ্রুপ পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার বলেন, সরকার নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। তাতে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সরকারের ভর্তুকি কিছুটা কমবে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্যের দাম নতুন করে বাড়বে কি না বা কতটা বাড়বে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি শুধু জ্বালানি তেলের দামের ওপর নির্ভর করে না। অন্যান্য অনেক বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত থাকে। তবে বাণিজ্যিক ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ অন্যান্য পরিবহনের যাত্রার সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
তাতে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও যানবাহনেরও এক ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পাওয়ায় যানবাহন চলাচলের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে পণ্য পরিবহন খরচ বা ভাড়া বেড়ে গেছে। আগে যে ট্রাকের ভাড়া ছিল ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারের উচিত তেল সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তা হলে হয়তো পরিবহন খাতে গাড়ির যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটি কাটবে। তখন ভাড়া নিয়েও প্রতিযোগিতার সুযোগ বাড়বে।
সরকারের মন্ত্রীরা যা বলছেন : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্তের সম্পর্ক নেই, বরং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও সরকারি তহবিলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দাম বাড়ানো হয়েছে। আইএএমএফের সঙ্গে বৈঠক শেষে দেশে ফিরে রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের সবাই বলছে, আপনারা তেলের দাম বাড়াচ্ছেন না কেন? আপনার তো তহবিল খালি হয়ে যাচ্ছে। তেলের দাম না বাড়ালে দেশ চালাবেন কী করে? সে জন্য যতটুকু না বাড়ালে নয়, ততটাই বাড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে আইএমএফ শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি বাড়তেও পারে, না-ও বাড়তে পারে। জ্বালানি তেলের দাম যতটুকু বেড়েছে তা বেশি নয়। মূল্যস্ফীতির ঝুড়িতে জ্বালানি তেলের অংশ সামান্য।
অন্যদিকে তেলের দাম বিশ্ববাজারে দ্বিগুণ বাড়লেও দেশে সামান্য বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে মন্ত্রী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থির পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল আমদানিতে সরকারের বাড়তি দুই বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের যে দাম ছিল, বর্তমানে তা প্রায় দ্বিগুণ। এই বিশাল মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরকারের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।