প্রচণ্ড গরম ও তীব্র রোদে জনজীবন রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের প্রখরতাও বাড়তে থাকে। সূর্যের প্রখর তাপে সাধারণ মানুষের জীবন পুরোপুরিভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজধানীতে বৃষ্টি না হওয়া আর প্রচণ্ড রোদে ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে কাজ করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দিন মজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর পরও খেটে খাওয়া মানুষগুলো জীবন জীবিকার তাগিদে ও জরুরি প্রয়োজনে প্রচণ্ড গরমকে উপেক্ষা করে কাজে বের হচ্ছেন। অনেক পথচারী ছাতা মাথায় দিয়ে চলাচল করছেন। আবার অনেকেই কাজে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে।
দেশজুড়ে চলমান মৃদু তাপপ্রবাহ আগামী কয়েক দিনে আরও শক্তিশালী হয়ে মাঝারি থেকে তীব্র রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে ২৫-২৬ এপ্রিল পর্যন্ত রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই তাপপ্রবাহের প্রভাব বাড়তে পারে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে প্রকাশিত এক বার্তায় বিডব্লিউওটি জানায়, বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হবে। রাজশাহী, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে তাপমাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও কোথাও পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে।
আরও পড়ুন
সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে গরমের দাপট সবচেয়ে বেশি থাকবে। বিশেষ করে রাজশাহী, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যেতে পারে। এ সময় দেশের কিছু কিছু জেলায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, বগুড়া, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি এলাকায় দিনের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। তবে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের দু-একটি জায়গায় তাপমাত্রা ৪০ক্ক সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
সোমবার সকাল থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া,দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে,লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
হিটস্ট্রোক এড়াতে পরামর্শ: বিডব্লিউওটি জানায়, তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যায়। এজন্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত যখন রোদের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে, তখন প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া ভালো। দিনের বেলা ঘরে বা অপেক্ষাকৃত শীতল স্থানে অবস্থান করার চেষ্টা করুন। শরীর সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। ফ্রিজের অতিরিক্ত কনকনে ঠাণ্ডা পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ ঠাণ্ডা পানি শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এএডি/