জনশক্তি রফতানিতে যত দুর্বলতা

এমএকে জিলানী

জাতীয়

ইউরোপের ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের ভুয়া নথি, অবিশ্বস্ত বা লাইসেন্সবিহীন এজেন্ট ব্যবহারের কারণে দেশের জনশক্তি রফতানিতে ত্রাহি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জনশক্তি

2026-04-25T02:57:48+00:00
2026-04-25T02:57:48+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
জনশক্তি রফতানিতে যত দুর্বলতা
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৭ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ইউরোপের ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের ভুয়া নথি, অবিশ্বস্ত বা লাইসেন্সবিহীন এজেন্ট ব্যবহারের কারণে দেশের জনশক্তি রফতানিতে ত্রাহি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জনশক্তি খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে জনশক্তি রফতানিতে দক্ষ কর্মী বাহিনী গড়ে তুলতে হবে।

নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া এবং দক্ষ কর্মী ছাড়া কোনো রাষ্ট্রই এখন অন্য দেশ থেকে কর্মী নেয় না। ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন বাংলাদেশি কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে, যার মধ্যে পুরুষ কর্মীর পাশাপাশি ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারীকর্মী রয়েছেন। বাংলাদেশের মূল শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্য। 

বাহরাইন, ইরান, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)- মধ্যপ্রাচ্যের এই ১০টি দেশের মধ্যে ৩ দেশে জনশক্তি রফতানি বন্ধ, ৩ দেশ দক্ষ কর্মী ছাড়া নেয় না, জর্ডান শুধু দক্ষ নারীকর্মী নেয়, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, ইরাকে নিকট ভবিষ্যতে বড় আকারে কর্মী পাঠানো যেতে পারে। 

বর্তমান যুগের চাহিদা অনুযায়ী, সব দেশই দক্ষ কর্মী চায়, এখন আর কেউ অদক্ষ কর্মী নেয় না। এখানেই সমস্যা, বাংলাদেশে প্রচুর জনশক্তি আছে কিন্তু দক্ষ কর্মীর অভাব। যে কারণে মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রফতানি কমছে। দক্ষ জনশক্তি গড়তে না পারলে বিদেশি শ্রমবাজারে খুব সহসা বড় আকারের ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে বাহরাইনে অনেক বছর ধরেই জনশক্তি রফতানি বন্ধ। যেখানে অনেক বাংলাদেশির আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে জনশক্তি রফতানি বন্ধ রয়েছে। ঢাকা এই বিষয়ে মানামার সঙ্গে কাজ করছে। ইরানে বাংলাদেশি জনশক্তি রফতানি খোলা কিন্তু দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং ইরানের অর্থের মান অনেক কম। এসব কারণে ইরানের ভিসাসেবা চালু থাকলেও সেখানে খুব বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাজ করতে যায় না। 

আবার সেখানে যেসব বাংলাদেশি যায় তাদের বেশিরভাগই ইরানের মধ্য দিয়ে তুরস্ক এবং আজারবাইজান ইত্যাদি দেশ হয়ে ইউরোপে পাড়ি জমায়। ইরাকে বাংলাদেশি জনশক্তি রফতানি খোলা কিন্তু দেশটি এখনও অস্থিতিশীল। আবার সেখানে কর্মরত বেশিরভাগ বাংলাদেশি অবৈধ উপায়ে অবস্থান করছে। নিকট ভবিষ্যতে ইরাক পুনর্গঠন করার আভাস পাওয়া গেছে এবং এ ইস্যুতে সেখানে অনেক আর্থিক তহবিলও জোগাড় হচ্ছে। ইরাক পুনর্গঠনের সময় তাদের প্রচুর কর্মীর প্রয়োজন হবে। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরাক পুনর্গঠনে সহযোগিতা করতে চায়। ইরাক পুনর্গঠনের সময় যাতে বাংলাদেশি কর্মীরা সেখানে ব্যাপকভাবে কাজ করতে পারে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে কাজ করছেন ঢাকার কূটনীতিকরা। এরই মধ্যে ইরাকে নিযুক্ত বাংলাদেশের দূত সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক করেছেন। জর্ডানে বাংলাদেশি জনশক্তি রফতানি খোলা কিন্তু দেশটি তৈরি পোশাক খাতের কর্মকাণ্ডের জন্য বেশিরভাগ নারী দক্ষ কর্মী নেয়। 

কুয়েত বাংলাদেশ থেকে অদক্ষ জনশক্তি নেয় না। যে কারণে দেশটিতে চাহিদা থাকলেও দক্ষ কর্মীর অভাবে বাংলাদেশ সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে জনশক্তি রফতানি করতে পারছে না। মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ লেবানন এখনও যুদ্ধ বিধ্বস্ত এবং অস্থিতিশীল। সেখানে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ভিসা বন্ধ। সচরাচর কোনো বাংলাদেশি সেখানে যায় না। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার ২০২৩ সাল থেকে বন্ধ আছে। সেখানকার শ্রমবাজার চালু করার জন্য ঢাকার কূটনীতিকরা কাজ করছেন। কাতারে বাংলাদেশি জনশক্তি রফতানি চালু কিন্তু দেশটি মূলত দক্ষ কর্মী চায়। পর্যাপ্ত দক্ষ কর্মী না 
থাকায় সেখানে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা দোহায় জনশক্তি পাঠাতে পারছে না। 

বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানির মূল কেন্দ্র হচ্ছে সৌদি আরব। কিন্তু সৌদি আরবও আর অদক্ষ কর্মী নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। সৌদি আরব যেতে হলে নির্দিষ্ট কাজের জন্য দক্ষতার পরিচয় এবং সনদ নিয়ে যেতে হবে, যা সৌদির ভাষায় তাকামুল পরীক্ষা বলা হয়। এই কারণে সৌদিতেও জনশক্তি রফতানি কমছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি জনশক্তি রফতানি বন্ধ রয়েছে। কারণ হচ্ছে বেশিরভাগ বাংলাদেশি ইউরোপ যাওয়ার জন্য অবৈধ উপায়ে এই দেশটিকে ব্যবহার করে। শুরুতে ইউরোপের দেশগুলো সরাসরি এই বিষয়ে বাংলাদেশকে বলে কোনো সুরাহা পায়নি। ফলে ইউরোপের দেশগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিষয়টি জানালে তারা বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা বন্ধ করে দেয়।

রামরুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৭ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। মোট অভিবাসীর ৬৭ শতাংশ গেছেন সৌদি আরবে। এই সংখ্যা ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬৯ জন। এরপর কাতারে ১০ শতাংশ, ৬ শতাংশ সিঙ্গাপুরে, কুয়েতে ৪ শতাংশ ও মালদ্বীপে ৪ শতাংশ কর্মী গেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপের দেশগুলোতে জনশক্তি রফতানির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ইউরোপের দেশগুলো অনেক আগে থেকেই অদক্ষ কর্মী নিয়োগ বাতিল করেছে। এ ছাড়া ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবেশ করার জন্য বাংলাদেশিরা ভিসায় যেসব তথ্য ব্যবহার করেন তার বেশিরভাগই জালিয়াতি বা তাতে অবৈধ পন্থা ব্যবহার করেন। যে কারণে অতি সম্প্রতি ইউরোপের ১৩টি দেশ একযোগে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভিসা ইস্যুতে সতর্কবার্তা জারি করেছে। 

সতর্কবার্তা দেওয়া দেশগুলো হলো- অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্য। এই দেশগুলোর যৌথ সতর্কবার্তায় বলা হয়, ভিসা, পারমিট বা অন্যান্য কনস্যুলার সেবা নিতে সব আবেদনকারীকে আমরা যৌথভাবে সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানায়। 

বার্তায় আবেদনকারীদের ভুয়া নথি, অবিশ্বস্ত বা লাইসেন্সবিহীন এজেন্ট ব্যবহার না করতে এবং অননুমোদিত ব্যক্তি, এজেন্ট বা মিশনের কাছে অর্থ প্রদান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বার্তায় আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে (ভিসা প্রক্রিয়ায়) বিলম্ব, আর্থিক ক্ষতি, সীমান্তে প্রবেশে বাধা কিংবা গুরুতর আইনি শাস্তির মতো পরিণতি হতে পারে।সবসময় যাচাইকৃত তথ্য ও বৈধ কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা সরকারি মাধ্যমের ওপর নির্ভর করুন। সবার জন্য নিরাপদ, ন্যায্য ও স্বচ্ছ আবেদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই আমাদের যৌথ অগ্রাধিকার।

অন্যদিকে এশিয়ার জাপান ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের প্রচুর জনশক্তি রফতানির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু জাপানে জনশক্তি রফতানিতে দক্ষ কর্মীর পাশাপাশি ওই দেশের ভাষা জানা জরুরি। 

প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গত সোমবার জাতীয় সংসদে জানান, মন্ত্রণালয় এবং জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে জাপানি ভাষা শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অধিক হারে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জাপান সেল নামে আলাদা সেল গঠন করা হয়েছে। 

মালয়েশিয়া ইস্যুতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর পক্ষে সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক গত সোমবার বলেন, সৌদি আরবের পর অন্যতম বড় শ্রমবাজার হচ্ছে মালয়েশিয়া। এই শ্রমবাজার খোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে এপ্রিল মাসের ৮ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত  মাহদী আমিন এবং আমি দেশটি সফর করেছি। মালয়েশিয়ার সরকার ও আমাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে।

এ ছাড়া রাশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার মালদ্বীপে বাংলাদেশি জনশক্তি রফতানি ইতিবাচক। রামরুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে রাশিয়া বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন শ্রমবাজার। গত বছর ৪ হাজার ৬৬৩ জন দেশটিতে গেছেন। তবে ভালো বেতন ও রাশিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অভিবাসী সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে একটি চক্র। এই চক্রের একাংশ রাশিয়ার অসাধু চক্রের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশি কর্মীদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য পাঠাচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ এবং সংকুচিত শ্রমবাজার মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে কর্মীর পাঠানোর লক্ষ্যে দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর উদ্দেশ্যে এক লাখ ড্রাইভার তৈরির জন্য দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের ভিসার মেয়াদ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, রোমানিয়া, সিশেলস, পর্তুগাল ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে অভিবাসন নিয়ে বেশ কয়েকটা প্যারাগ্রাফ রয়েছে, যা ইতিবাচক। এর একটি ভালো দিক হচ্ছে যে দক্ষ কর্মী গড়া। কিন্তু দক্ষ কর্মী গড়া শুধু একটি প্ল্যাটফর্মের বিষয় না। এখানে মাল্টি লেভেলের স্টেকহোল্ডার রয়েছে, যাদের সবার সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। কেননা শুধু দুই-তিন মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা সম্ভব না। এ জন্য পরিকল্পনা করে বিভিন্ন মেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে। 

কারিগরি শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করে সবার জন্য তা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আবার বর্তমান সরকারের ইশতেহারে বলা হয়েছে- আগামী ৫ বছরে ১ কোটি জনশক্তি রফতানি করা হবে। কিন্তু কীভাবে? কারণ বর্তমানে প্রতি বছরে জনশক্তি রফতানি হয় গড়ে ১০ থেকে ১২ লাখ। এই বছর যুদ্ধ-বিগ্রহের কারণে এমনিতেই জনশক্তি রফতানি কমবে। এ ক্ষেত্রে বিদেশে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে আমাদের মানসিকতারও পরিবর্তন আনা জরুরি।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   জনশক্তি  রফতানি  দুর্বলতা  সমস্যা 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: