ঢাবিতে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা সিটবঞ্চিত বেশি

ফাইয়াজ উদ্দিন স্মরণ

শিক্ষা

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪২ হাজারেরও বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একশ পাঁচ বছর অতিক্রম করলেও

2026-04-25T04:52:59+00:00
2026-04-25T04:52:59+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
শিক্ষা
ঢাবিতে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা সিটবঞ্চিত বেশি
ফাইয়াজ উদ্দিন স্মরণ
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫২ এএম   (ভিজিট : ৫৫)
সংগৃহীত ছবি
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪২ হাজারেরও বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একশ পাঁচ বছর অতিক্রম করলেও এখনও আবাসন সংকট তীব্র। বিদ্যমান তথ্য অনুযায়ী মোট শিক্ষার্থীর ৫৩ শতাংশের বেশি এখনও হলের সিট থেকে বঞ্চিত, যার মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি তুলনামূলকভাবে প্রকট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ভর্তি কমিটির তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪২ হাজার ৮৮১ জন। এর মধ্যে ছাত্রী রয়েছেন ২০ হাজার ৭২৯ জন এবং ছাত্র ২২ হাজার ১৫২ জন। বিপুল এই শিক্ষার্থী সংখ্যার বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ১৯টি আবাসিক হল ও ৪টি হোস্টেল। এর মধ্যে ছাত্রদের জন্য ১৩টি, ছাত্রীদের জন্য ৫টি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ১টি হল বরাদ্দ রয়েছে। 

অন্যদিকে ৪টি হোস্টেলের মধ্যে আইবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য আইবিএ হোস্টেল, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের জন্য ড. কুদরাত-এ-খুদা হোস্টেল, উচ্চতর গবেষণায় নিয়োজিত ছাত্রীদের জন্য নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছাত্রীনিবাস এবং ছাত্রীদের জন্য শহিদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল রয়েছে।


ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা বেশি বঞ্চিত
মোট শিক্ষার্থীর ৪৮.৩৩ শতাংশ ছাত্রী হলেও তাদের জন্য হল রয়েছে মাত্র পাঁচটি এবং দুটি ছাত্রীনিবাস। বিপরীতে ৫১.৬৭ শতাংশ ছাত্রের জন্য রয়েছে ১৩টি হল ও দুটি ছাত্রাবাস। ফলে আবাসন সংকটে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা বেশি ভুগছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট ২০ হাজার ৭২৯ জন ছাত্রীর মধ্যে হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন মাত্র ৭ হাজার ২১০ জন, যা প্রায় ৩৪.৭৮ শতাংশ। অপরদিকে ১৩ হাজার ৫১৯ জন ছাত্রী, অর্থাৎ প্রায় ৬৫.২২ শতাংশ, হলের বাইরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে ২২ হাজার ১৫২ জন ছাত্রের মধ্যে হলে থাকতে পারছেন ১২ হাজার ৭৬৯ জন, যা মোট ছাত্রের ৫৭.৬৪ শতাংশ। বাকি ৯ হাজার ৩৮৩ জন (৪২.৩৬ শতাংশ) সিট থেকে বঞ্চিত।

হলভিত্তিক আবাসিক শিক্ষার্থীর চিত্র
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন হলে আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন। জগন্নাথ হলে সর্বোচ্চ ১,২৮৫ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। এ ছাড়া কবি জসীমউদদীন হলে ১,২৩৬ জন, বিজয় একাত্তর হলে ১,১৯২ জন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে ১,১৭১ জন, শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ১,১৬২ জন এবং মাস্টার দা সূর্যসেন হলে ১,১৪৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে ১,০১১ জন, ফজলুল হক মুসলিম হলে ৯৭৮ জন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ৯৩৮ জন এবং শহিদ ওসমান হাদি হলে ৭৯০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। 

অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে কম শিক্ষার্থী রয়েছে এ. এফ. রহমান হলে ৭০৯ জন, অমর একুশে হলে ৫০৭ জন এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ২০৩ জন। এ ছাড়া আইবিএ হোস্টেলে ১২৩ জন, ড. কুদরাত-এ-খুদা হোস্টেলে ৩১০ জন এবং স্যার পি. জে. হার্টগ আন্তর্জাতিক হলে মাত্র ৮ জন আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। ছাত্রীদের আবাসিক ব্যবস্থায় রোকেয়া হলে সর্বোচ্চ ২,০২৯ জন ছাত্রী অবস্থান করছেন। এরপর কবি সুফিয়া কামাল হলে ১,৫৬৩ জন, শামসুন্নাহার হলে ১,৫০৬ জন এবং বীরপ্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলে ১,১৫৩ জন ছাত্রী রয়েছেন। বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে রয়েছে ৭২৫ জন ছাত্রী। এ ছাড়া শহিদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেলে ১৭৮ জন এবং নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছাত্রীনিবাসে মাত্র ৫৬ জন শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।

সিট সংকটে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি
হলের সিট না পেয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মেস বা সাবলেটে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব আবাসনে উচ্চ ভাড়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং নিম্নমানের খাবার শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ও বাড়তি খরচ একটি বড় সমস্যা। প্রতিদিন যানজটে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় তারা পড়াশোনায় পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না, যা তাদের একাডেমিক ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি হলভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমেও অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের অনাবাসিক শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, ভর্তি হওয়ার পর থেকেই হলে একটি সিট পাওয়ার আশায় ছিলাম, কিন্তু এখনও পাইনি। বাধ্য হয়ে বাইরে থাকতে হচ্ছে, যেখানে ভাড়া বেশি, পরিবেশও অনুকূল নয়। 
প্রতিদিন যাতায়াত, নিরাপত্তাঝুঁকি ও আর্থিক চাপ মিলিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছি।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সামিয়া জাহান বলেন, হলে সিট না পেয়ে বাইরে থাকতে হচ্ছে। নিরাপত্তা ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে নিরাপদ আবাসন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
দাবি-আন্দোলন ও প্রশাসনের উদ্যোগ আবাসন সংকট নিরসনে গত ২০ এপ্রিল নবীন শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন। এতে হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের দাবি, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের দ্রুত বৈধ সিট প্রদান এবং পরবর্তী সেশনের ক্লাস শুরুর আগেই আবাসন নিশ্চিত করা।

একই দিনে আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। 

তারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন, যার মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন সেশনের শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত সিট বরাদ্দের সার্কুলার প্রকাশ, দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ডিজিটাল মনিটরিং চালু এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিট তালিকা প্রকাশ।   

এদিকে আবাসন সংকট লাঘবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। গত বছর হলে থাকতে না পারা ছাত্রীদের জন্য ‘আবাসন সহায়তা’ হিসেবে মাসে তিন হাজার টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে ২,৬০০ ছাত্রী ও ৫,১০০ ছাত্রের জন্য নতুন আবাসিক হল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হল নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক নকশাও উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, হলের সিট ইস্যুতে আলোচনা চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, নতুন হল নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আবাসন সংকট অনেকাংশে কমে আসবে।

সময়ের আলো/আআ





  বিষয়:   ঢাবি  ছাত্র  ছাত্রী  সিট  বঞ্চিত 


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: