পোশাক খাতে গভীর সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

চলমান বৈশ্বিক সংকটে পোশাক শিল্পের ব্যবসা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে নিট পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম

2026-04-26T04:07:24+00:00
2026-04-26T04:07:24+00:00
 
  শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬,
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
পোশাক খাতে গভীর সংকট
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৭ এএম 
সংগৃহীত ছবি
চলমান বৈশ্বিক সংকটে পোশাক শিল্পের ব্যবসা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে নিট পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানি তেলের সংকট ও চলমান লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা ফ্যাক্টরির নিয়মিত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারছি না।  

এছাড়া পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া, শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন অব্যাহত রাখা, ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতা, এনবিআরের ব্যবসায়িক আচরণ, কাস্টমসের স্বেচ্ছাচারিতা সব মিলিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব কারণে আমদের শিপমেন্ট ডেটগুলো ফল করছে। সব মিলিয়ে এক্সপোর্টের ক্রয়াদেশ নিয়মিতভাবে ডিকলাইন হচ্ছে, যার ফলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমছে রফতানি। 

শনিবার সকালে রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং ও গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি এক্সপো (বিটিকেজি এক্সপো) উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে ইউরোপের অনেক ক্রেতা নতুন ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে অর্ডার প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বায়াররাতো আমাদের এখানে ইনভেস্টমেন্ট করতে এসে আগে আমাদের অবস্থা দেখবে যে আমরা ভালো আছি কি না। আমরা তো কাস্টমস ও টেক্সেশনসহ নানা জটিলতায় পড়ে আছি। বায়াররা সংকিত আমাদের শিল্পের এই অবস্থা দেখে। সব মিলিয়ে বর্তমানে আমাদের অর্ডার প্লেসিংটা স্লো হয়ে গেছে। গত মাসে ১৯.৭৮ শতাংশ, তার আগের দুই মাসে ২০.৫ ও ১৬.২৫ শতাংশ কমেছে রফতানি। এমন অবস্থায় অনেক কারখানাই আগের তুলনায় সীমিত সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।


বিকেএমইএর সভাপতি বলেন, বিভিন্ন শিল্প এলাকায় প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। পরশু দিন আশুলিয়ায় দিনের বেলায় ছয় ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ছিল না। একটি কারখানা দিনের বেলায় সাধারণত ১০ ঘণ্টা কার্যক্রম চালায়। এর ফলে দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে ভালুকা, শ্রীপুর বা রাজেন্দ্রপুরের মতো পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় লোডশেডিংয়ের সমস্যা আরও প্রকট। 

তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে শিল্পকারখানাগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। তাই রফতানিও প্রতি মাসে একটু একটু করে কমছে। অনেক কারখানা তাদের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করা গেলে এই খাতে রফতানি আয় বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারত। 

তিনি আরও বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থার ফলে বেড়েছে পণ্যের চালান পৌঁছানোর সময় ও খরচ। এ ছাড়া শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ নানা কারণে তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদন খরচ অন্তত ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ দিকে উৎপাদন খরচ বাড়লেও ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি মূল্য আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা শ্রম আইন ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে আমাদের ওপর নজরদারি চালায়, যেন শ্রমিকরা নিয়মিত প্রাপ্য বেতন পায়। তবে ক্রেতারা আমাদের ন্যায্য মূল্য দিচ্ছেন কি না, সে বিষয় নিয়ে কেউ তদারকি করছে না। 

সম্মেলনে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ও বিটিকেজি এক্সপোর আহ্বায়ক ফজলে শামীম এহসান বলেন, জ্বালানির সংকটসহ মূল্যবৃদ্ধির ফলে ইউরোপের দেশসহ বিভিন্ন দেশে ভোক্তারা অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাচ্ছেন। অনেকে কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের মজুদ (ইনভেন্টরি) বেড়ে গেছে। এর ফলে শুধু বাংলাদেশ নয়, বৈশ্বিকভাবে বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে অনেক কারখানা তাদের মোট সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক নিয়ে কাজ করছে। 

এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি রফতানি আয়েও ধারাবাহিক পতন দেখা যাচ্ছে। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাধারণত এই সময়ে ক্রয়াদেশ কিছুটা কম থাকে। তারপরও নিয়মিত ক্রয়াদেশেও কিছুটা ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। সাধারণত আগামী বছরের ক্রয়াদেশ মে ও জুন মাসে বেশি আসে। তাই এই সময়ের মধ্যে বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী মৌসুমে এই খাতে রফতানি প্রবাহ কিছুটা কমতে পারে।

তবে শিল্প নেতারা আশা প্রকাশ করে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে চাহিদা বাড়লে আগামী মৌসুমে পোশাক খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এ অবস্থায় শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং রফতানি সহায়ক নীতিমালা গ্রহণের দাবি জানান তারা। 

এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজির নির্বাহী পরিচালক স্পেন্সার লিন উপস্থিত ছিলেন। বিকেএমইএ ও ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি যৌথভাবে এই বিটিকেজি এক্সপোর আয়োজন করেছে। আগামী বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তৈরি পোশাক শিল্পের যন্ত্র ও প্রযুক্তি নিয়ে এই প্রদর্শনী শুরু হবে। চার দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ২ মে পর্যন্ত। 

এছাড়া প্রদর্শনীতে থাকছে বিকেএমইএ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) ও পোশাক শিল্পের ম্যাগাজিন টেক্সটাইল টুডের যৌথ আয়োজনে তিনটি সেমিনার। প্রদর্শনীটি বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ দিকে প্রদর্শনীর প্রথম দিন সকাল ১০টায় আইসিসিবিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ, কানাডা, চীন, ভারত, জাপান, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, ফ্রান্স, হংকং, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৩০টি দেশের এক হাজারের বেশি প্রদর্শনকারী অংশগ্রহণ করবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০০টি প্রতিষ্ঠান প্রদর্শনীতে অংশ নেবে। প্রদর্শনীতে প্রায় ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ১ হাজার ৮০০টি বুথ থাকবে। প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বাধুনিক টেক্সটাইল যন্ত্র, ডাই ও কেমিক্যালস, নিটিং ও বয়নপ্রযুক্তি, অ্যামব্রয়ডারি, কাটিং ও সেলাই যন্ত্র, ওয়াশিং এবং ড্রাই ক্লিনিং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে।

এ দিকে প্রদর্শনীটিকে দেশের দ্রুত বিকাশমান পোশাক শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া শিল্পের এই ক্রান্তিলগ্নেও যেন বিদেশিরা বাংলাদেশে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয় এবং নতুন করে দেশে উদ্যোক্তা তৈরি করাই মেলার উদ্দেশ্য বলে জানান তারা।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   পোশাক  খাত  গভীর  সংকট 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: