টাকা ছাপার বিষয়টি সত্য নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পত্রিকান্তরে সংবাদ এসেছে সরকার নাকি ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছে। এই সংবাদ কোনোভাবেই সত্য

2026-04-26T04:19:42+00:00
2026-04-26T04:19:42+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
টাকা ছাপার বিষয়টি সত্য নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৯ এএম 
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংগৃহীত
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পত্রিকান্তরে সংবাদ এসেছে সরকার নাকি ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছে। এই সংবাদ কোনোভাবেই সত্য নয়। টাকা ছাপিয়ে সরকার কেন ঋণ নেবে। অতীতে বিএনপি যখন সরকারে ছিল তখনও টাকা ছাপেনি। 

আর সরকার টাকা না ছাপার আন্দোলন থেকে একটুও সরেনি। আর আগামীতে তো বাজেটের আকার কিছুটা বড় হবেই। বাজেটের সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনি মেনুফেস্টোতে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তার প্রতিফলন তো বাজেটে থাকবেই। আর বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বাজেট বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। 

শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট তৈরি নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্রাইসিসের কঠিন সময় অতিক্রম করছি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এই অবস্থা তৈরি করেছে। তবে আমাদের সবাইকে মিলে সংকট মোকাবিলার কাজ করতে হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য নীতি নৈতিকতার মধ্যে দিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা নিয়ে আসবে। অর্থনীতিতে গণতন্ত্রায়ন নিয়ে আসব। অর্থনীতিতে গণতন্ত্রায়ন না হলে গণতন্ত্র টিকতে পারে না। 

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রবর্তন করেছে। আগামীতে হেলথ কার্ড নিয়ে আসব। বাজেটে তার প্রতিফলন রাখতে চাই। আগামী বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হবে। বাজেটের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে চাই। দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের বাড়াতে চাই।
 
শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে মন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, পুঁজিবাজারকে পুরোপুরিভাবে সংস্কার করতে চাই। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে বড় করে দেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই। যেন বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগে আস্থা ফিরে পায়। আগামীতে শেয়ারবাজার থেকে সরকারের নতুন নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
 
মন্ত্রী বলেন, এত সমস্যার মধ্যে আমরা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়াতে চাই। তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। মাদরাসা শিক্ষায় প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এআই ব্যবহার সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। 

সম্পাদকদের পক্ষ থেকে যে সব বিষয় প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করা হয় এর মধ্যে রয়েছে, ঋণ খেলাপিদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করার কার্যক্রম দৃশ্যমান করা, কৃষিতে বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে প্রযুক্তি ব্যবহার করা, খাদ্য মজুদের সক্ষমতা বাড়ানো, প্রকৃত করদাতাদের হয়রানি না করে করের জাল বিস্তার করা, শিল্পী সাহিত্যিকদের সম্মানী থেকে উৎসে কর কর্তন না করা, কেবল অপারেটরদের টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে ডিজিলাইজেশন করা, নিউজ প্রিন্ট আমদানির শুল্ক কমানো, মূল্যস্ফীতি থেকে সাধারণ মানুষদের পরিত্রাণ দেওয়া, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত শেয়ার হোল্ডারদের কর কমানো, অনলাইন নিউজ পোর্টালে সরকারি বিজ্ঞাপন দেওয়ার ব্যবস্থা করাসহ আরও অনেক প্রস্তাব। 

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থসচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবসহ আরও অনেকে। 

সম্পাদকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক জানান, ২৩০ বিলিয়ন ডলার পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকার কাজ করছে। ইতিমধ্যে সরকারের গঠিত টাস্কফোর্স বিভিন্ন দেশের সঙ্গে লিয়াজোঁ রেখে চলেছে। এমনকি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়েও কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, পাচার করা টাকা দেশে ফেরত আনা একটু সময়সাপেক্ষে ব্যাপার। তবে দ্রুততার সঙ্গে কাজটি এগিয়ে নেওয়া যায় তার জন্য কাজ করা হচ্ছে। যারা টাকা পাচার করেছেন তারা যেন এই টাকা কোনোভাবেই ভোগ করতে না পারে সে ব্যবস্থা করা হবে। খেলাপি ঋণের বড় একটি অংশ চুরি বলা যেতে পারে। কারণ যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন তাদের কোনো জামানত নেই। সম্পদ নেই। এ নিয়ে জটিল সমস্যায় আছি।  

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, রাজস্ব বাাড়নোর জন্য বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে করের জালের আওতা বাড়ানো। এ ছাড়া কর ফাঁকি রোধ করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   টাকা  ছাপা  বিষয়  সত্য  নয় 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: