উত্তরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির আশঙ্কা, যেসব এলাকায় হতে পারে বন্যা

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় শনিবার সন্ধ্যা থেকে অতিবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একইসাথে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে

2026-04-26T09:15:34+00:00
2026-04-26T09:15:34+00:00
 
  শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
জাতীয়
উত্তরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির আশঙ্কা, যেসব এলাকায় হতে পারে বন্যা
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৫ এএম   (ভিজিট : ৩২)
বন্যার চিত্র। সংগৃহীত ছবি
দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় শনিবার সন্ধ্যা থেকে অতিবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একইসাথে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
 
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক এক গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।  

তিনি বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের কারণে ময়মনসিংহ ও সিলেট মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।  

এদিকে আবহাওয়া নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানান, আজ সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রাক-মৌসুমী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’ ধেয়ে আসছে। আজ থেকে শুরু হয়ে ৭ মে পর্যন্ত এই শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় কার্যকর থাকতে পারে বলে তিনি জানান। এই সময় দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় এবং কোথাও কোথাও অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। 
 
তিনি আরও বলেন, আজ থেকেই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা গেছে এবং সকালে কিছু এলাকায় বৃষ্টিও হয়েছে। আজ রাত থেকে বৃষ্টিপাত আরও সক্রিয় হতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে একটি অনুকূল আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে, যা আগামী প্রায় ৭ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ের মধ্যে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

আরও পড়ুন

উজানের এলাকাগুলো, যেমন মেঘালয়, আসাম এবং চেরাপুঞ্জি অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে মন্তব্য করে এই আবহাওয়াবিদ জানান, ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়কালে এসব এলাকায় প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা রয়েছে, যা বাংলাদেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে এই বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে।

তিনি জানান, প্রথমদিকে বৃষ্টিপাত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে এটি ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২৯ এপ্রিল  থেকে ৫ মে পর্যন্ত সময়ে দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় নিয়মিত ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। যদিও মাঝেমধ্যে এক-দুই দিনের জন্য বিরতি দেখা যেতে পারে, তবুও এই সময়ে বৃষ্টিপাতের আধিক্য থাকার আশঙ্কা বেশি।

এই সময়ে অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়া বা ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকতে পারে। কিছু কিছু স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে এর চেয়ে কম বা বেশি গতিবেগও হতে পারে। এই বৃষ্টিপাতের কারণে হাওর অঞ্চলে চলমান ধান কাটার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টানা বৃষ্টি হলে কৃষকরা সময়মতো ধান কাটতে পারবেন না, ফলে ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি জানান।

আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রার আধিক্য ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ বা ২৯  এপ্রিল থেকে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হয়ে উঠতে পারে। 

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪৫ থেকে ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির যে গুজব ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে মশিউর রহমান বলেন, বাস্তবে এমন কোনো আশঙ্কা নেই। বরং বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির কারণে তাপমাত্রা কমে আসার সম্ভাবনাই বেশি।


/ইউএমএইচ
 



  বিষয়:   অতিবৃষ্টি  বন্যা 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: