সরকারের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননে ঢাকার ভাগে কতটুকু?

মারুফ কামরুল

জাতীয়

‘কৃষ্ণপক্ষ’ নামে বাংলাদেশি একটি ব্যান্ডের ‘ভাঙা সাইকেল’ গানের দুটি লাইন দিয়ে শুরু করছি। তারা গাইছেন- ‘শহরের বুকে একটি সমুদ্র চাই,

2026-05-05T21:25:25+00:00
2026-05-05T21:25:25+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
সরকারের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননে ঢাকার ভাগে কতটুকু?
মারুফ কামরুল
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৯:২৫ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
‘কৃষ্ণপক্ষ’ নামে বাংলাদেশি একটি ব্যান্ডের ‘ভাঙা সাইকেল’ গানের দুটি লাইন দিয়ে শুরু করছি। তারা গাইছেন- ‘শহরের বুকে একটি সমুদ্র চাই, সমুদ্রের পাড়ে বসে গান গেতে চাই।’ তাদের এ চাওয়ায় আপাতদৃষ্টিতে বিলাসিতা দেখা গেলেও এই হাহাকার ধ্রুব। নদী বেষ্টিত ঢাকার পুরো মানচিত্রজুড়ে এক সময় জাল পেতে রেখেছিল অসংখ্য খাল। সেই মানচিত্রে যখন কেবলই দালান আর আবর্জনার দখলে, সেখানে বসে সমুদ্র চেয়ে যদি নিদেনপক্ষে হারানো নদী-খালগুলোও ফিরে পাওয়া যায়, তাতে অন্তত দমে পানি পায় এ মৃতপ্রায় শহর। কিন্তু পাথর-কঠিন এ নগরীর আকুতি শুনবে কে? কে বা ফিরিয়ে দিবে দখলে গিলে খাওয়া খালগুলো?

এরমাঝে ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান-চট্টগ্রাম ডিভিশন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিলেন, ‘বিএনপি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে দেশের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবে।’

অবশেষে বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করল। এখন আশা করা যাচ্ছে, নতুন করে খাল খননের পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া খালগুলোও পুনরুদ্ধার করবে বিএনপি সরকার। পরিবেশগত ঝুঁকিতে থাকা কৃষকদের কাছে তারেক রহমানের খাল খননের অঙ্গীকার ভোগান্তি লাগবের ‘পাথেয়’ হিসেবে ধরা দিয়েছে। এবং তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় হাতে কোদালও তুলে নিয়েছেন। এরইমধ্যে ১৬ মার্চ দিনাজপুরে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জেলা পর্যায়ে এ খাল খনন কর্মসূচি জনমনে আশা জাগালেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে ঘোষিত ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কতো কিলোমিটার ভাগে পাবে ধুঁকতে থাকা এ ঢাকা নগরী? নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ঢাকার ভেতরে বিদ্যমান প্রায় ৫৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ব্লু নেটওয়ার্ক’, অর্থাৎ খাল ও নদীর সমন্বিত জলপথ ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধার করাই হচ্ছে মূল চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে যদি প্রায় ৬০০ কিলোমিটার ঢাকার ভাগে দেয়া যায়, তবে হয়তো পুনর্জন্ম হবে এ নগরীর। গড়ে উঠবে প্রাণ-প্রকৃতির ঢাকা। এখন প্রশ্ন, সরকার কী সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত?

খাল হারিয়ে উষ্ণ হচ্ছে ঢাকা 
নদীমাতৃক বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা একসময় ছিল খাল আর জলাশয়ের শহর। একটি খাল মানে শুধু জলপথ নয়—এটি ঘিরে গড়ে ওঠে মাছ, পাখি, গাছপালা এবং সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্যপূর্ণ জগৎ।

পরিবেশকর্মীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মাত্র তিন দশক আগেও পুরো নগরজুড়ে জালের মতো বিস্তৃত ছিল অসংখ্য খাল। কিন্তু ভুল পরিকল্পনা ও অদূরদর্শী উন্নয়নের ফলে সেই জলনির্ভর শহর আজ ক্রমেই পানিশূন্যতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমান বাস্তবতায় ঢাকায় নিরাপদ পানির সংকট প্রকট। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যেমন সংকট রয়েছে, তেমনি অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতেও পর্যাপ্ত পানির অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বড় সমস্যা— তাপমাত্রা বৃদ্ধি। খাল ও জলাশয় ভরাট হওয়ায় স্বাভাবিক গরমেই শহরটি পরিণত হয় ‘হিট আইল্যান্ড’-এ। অন্যদিকে শীত মৌসুমে বায়ুদূষণ এতটাই বাড়ে যে ঢাকা প্রায়ই বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকায় উঠে আসে।

রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘নীতিনির্ধারকদের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল খালকে কেবল পানিপ্রবাহের মাধ্যম হিসেবে দেখা। এ দৃষ্টিভঙ্গির ফলেই পরীবাগ, পান্থপথ ও সেগুনবাগিচা খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে বক্স কালভার্টে রূপান্তর করে তার ওপর সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এভাবে খাল মেরে ফেলার ফলে শুধু পানিপ্রবাহই বন্ধ হয়নি; আশপাশের পুরো পরিবেশ ব্যবস্থাও ধ্বংস হয়েছে। মাছ, পাখি, গাছপালা ও নির্মল বায়ু— সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবেই আজকের ঢাকা পরিণত হয়েছে যানজট, ভিড়, দূষণ ও রোগব্যাধির শহরে।’

ঢাকার বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে খাল পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকাকে বাঁচাতে হলে বিদ্যমান খালগুলোকে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যেকোনো মূল্যে পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে বহুগুণে ফিরে আসবে পরিবেশগত ভারসাম্য, জনস্বাস্থ্য ও নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে।’

সরকারি উদ্যোগ
যদিও সরকার এরইমধ্যে ঢাকার খাল পুনরুদ্ধারে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পানিসম্পদ, পরিবেশ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ১৯টি খাল পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। চলতি বছরেই প্রায় ১২৫ কিলোমিটার খাল নেটওয়ার্ক সচল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক মন্ত্রী সম্প্রতি বলেন, ‘ঢাকার খালগুলো শুধু পরিষ্কার করলেই হবে না, এগুলোকে একটি সমন্বিত ‘ব্লু নেটওয়ার্ক’-এ রূপ দিতে হবে। খালের সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্ত করা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

দখলদারদের খতিয়ান ও পরিসংখ্যান জটিলতা
কিন্তু খাল পুনরুদ্ধারের প্রশ্ন এলেই সামনে আসে অন্য আরেক জটিলতা। খালের সংখ্যা নিয়ে এ ধরনের লুকোচুরি খেলা চলে। অথচ খাল পুনরুদ্ধার করতে হলে প্রথমে খালের সংখ্যা এবং অবস্থান জানতে হবে। কারণ নগরবিদ ও পরিবেশকর্মীরা বলছেন, কিছু কিছু খালের অস্তিত্ব এমনভাবে হারিয়েছে যে, সেগুলোর আর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই। সেখানে হয়তো দখল হয়ে বহুতল ভবন তৈরি হয়ে গেছে, নাহয় চলাচলের সড়ক হয়ে গেছে। ফলে খালের সঠিক পরিসংখ্যান ও অবস্থান জানাটা জরুরি।

ঢাকার খালগুলো নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করে রাখা হয়েছে বলে মনে করেন গবেষকরা।

ঢাকার খাল গবেষক তরুণ সরকার বলেন, ‘ঢাকার খালের কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা নেই। একই খাল অন্য এলাকায় গিয়ে অন্য নাম ধারণ করেছে। আবার একই খালের শাখা কয়েক এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনে ঢাকায় জীবন্ত ৬৫টি খালের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন আবার ৫৪টি খালের কথা বলছে। ড্যাপে বৃহত্তর ঢাকায় ২১৯টি খালের ম্যাপসহ উল্লেখ আছে।’

পরিসংখ্যান নিয়ে এ ধোঁয়াশা তৈরি পেছনে বড় কারণ হিসেবে গবেষকরা চিহ্নিত করেছেন দখলদারদের আড়ালে রাখা। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের হালনাগাদ প্রকাশিত তালিকার তথ্য মতে, ঢাকার নদী-খাল দখলদারের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার। বিশ্লেষকদের মতে, দখলদারদের বেশিরভাগই কোনো না কোনো রাজনৈতিক ছায়া থাকে। এবং নদী দখলের প্রধান হাতির হিসেবে তারা প্রথমে বেছে নেয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, প্রার্থনালয় ও সামাজিক ক্লাব নির্মাণকে। পরে ধীরে ধীরে দখলে নিতে থাকে।

পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘খাল পুনরুদ্ধারের চলমান উদ্যোগের পাশাপাশি খাল দখলের ইতিহাস ও দখলদারদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ। সরকার খাল পুনরুদ্ধারে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে, কিন্তু এর আগে প্রয়োজন একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা; এতো বছর ধরে এসব খাল কারা দখল করে রেখেছিল? তাই দখলদারদের একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করতে হবে- যেখানে তাদের পরিচয়, বিশেষ করে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রয়োজন একটি ফরেনসিক তদন্ত; যার মাধ্যমে নির্ধারণ করা যাবে খাল দখল করে তারা কী পরিমাণ আর্থিক লাভ করেছে। যদি এ তথ্যগুলো সামনে আনা যায়, তাহলে খাল পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ দখলদারদের কাছ থেকেই আদায় করা সম্ভব হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো সরকারই খাল, নদী বা প্রাকৃতিক জলাধার দখলকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় না। এমনকি তাদের নিয়ে কোনো শ্বেতপত্রও প্রকাশ করা হয় না। ফলে দখলদাররা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে, বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রকাশ্যে প্রভাবশালী অবস্থান বজায় রাখে।’

রাজধানীর খাল পুনরুদ্ধারে অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঢাকার কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ধানমন্ডি, গুলশান, বারিধারা ও পুরান ঢাকার যেসব খাল পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে, সেগুলো পুনরুদ্ধার করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। তবে এ খালগুলো ফিরিয়ে আনা না গেলে অন্য খাল ও নদী পুনরুদ্ধারের সুফলও মিলবে না।

ড্যাপ এর পরিকল্পনা
রাজধানীর খাল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনাকে বাস্তবভিত্তিক করতে এরইমধ্যে একটি সমীক্ষা সম্পন্ন করেছেন ড্যাপের প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সমীক্ষায় রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাল— কল্যাণপুর, রায়েরবাজার ও রামচন্দ্রপুরকে মডেল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, এ তিনটি খালকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন হবে অন্তত এক-দেড় হাজার কোটি টাকা করে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শুধু খনন বা পরিষ্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে ঢাকার খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

তাদের মতে, ঢাকার ভেতরে বিদ্যমান প্রায় ৫৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ব্লু নেটওয়ার্ক’, অর্থাৎ খাল ও নদীর সমন্বিত জলপথ ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধার করাই হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ। এ নেটওয়ার্ক সচল করতে প্রয়োজন হবে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ, যার ব্যয় হবে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিশেষ করে রায়েরবাজার খাল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ব্যয়ের বড় একটি অংশ যাবে ভূমি ও ভবন অধিগ্রহণে। কারণ বহু স্থানে খাল দখল হয়ে গেছে বা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

ড্যাপসংশ্লিষ্টরা বলছেন, খালের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনা অপসারণ করা ছাড়া পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কোথাও কোথাও খালের প্রস্থ এতটাই কম যে নৌ-চলাচল তো দূরের কথা, স্বাভাবিক পানিপ্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়। এসব ক্ষেত্রে খাল প্রশস্ত করতে অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ ও ভবন অপসারণ প্রয়োজন হবে, যা ব্যয় আরো বাড়িয়ে দেবে।

রাজধানীর খাল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার বাস্তব দিকগুলো তুলে ধরে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এ উদ্যোগ কেবল খাল খনন বা পাড় বাঁধাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি হবে একটি সমন্বিত নগর উন্নয়ন প্রক্রিয়া।’

তিনি আরও বলেন, খালের সীমানা নির্ধারণে সিএস ম্যাপকে ভিত্তি ধরা হবে এবং তা কোনোভাবেই কমানো হবে না। বরং কোথাও কোথাও নৌ-চলাচল ও পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে খালের প্রস্থ বাড়ানোর উদ্যোগও নেয়া হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ ব্যয়বহুল হলেও ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে এর কোনো বিকল্প নেই। পুরো শহরের ‘ব্লু নেটওয়ার্ক’ পুনরুদ্ধারে যে অর্থ ব্যয় হবে, তা একটি এমআরটি লাইনের ব্যয়ের সমপর্যায়ের, যা রাষ্ট্রের জন্য অসম্ভব নয়।

ড্যাপের প্রাক্কলন অনুযায়ী, রায়েরবাজার খালে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রয়োজন ৯৬৭ কোটি ১২ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এছাড়া খালের ওপর থাকা ভবন পুনরুদ্ধারে ১৩৪ কোটি ৬৮ লাখ ৮ হাজার, খাল খনন ও পাড় বাঁধাইয়ের ক্ষেত্রে ১৩১ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ হাজার, নৌঘাট নির্মাণে ৩৪ লাখ ৯ হাজার, এম্ফিথিয়েটার ১২৫ লাখ, ওয়াকওয়ে ৪৫ কোটি ৭৫ লাখ ২৬ হাজার এবং সবুজায়নে ২৮ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে খালটি পুনরুদ্ধারে মোট ১ হাজার ১৪৮ কোটি ১৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা প্রয়োজন। একইভাবে কল্যাণপুর খাল পুনরুদ্ধারে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে।

তবে পরিকল্পনা যত উত্তমই হোক না কেনো, সবার আগে জরুরি বিষয় হলো সমন্বয় করা। দখল উচ্ছেদ করে দখলদার থেকে অর্থ পাওয়ার পরামর্শ নগর পরিকল্পনাবিদরা দিয়েছেন। কিন্তু সব গুছিয়ে আনা হলেও সব আটকে থাকছে সমন্বয় জটিলতায়। ঢাকার খালগুলোর মালিক আগে ছিল ওয়াসা, এখন সিটি করপোরেশন।

তবে আশার কথা বললেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সব সংস্থার সমন্বয়ে খাল পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে এরইমধ্যে কমিটি করে দেয়া হয়েছে, লক্ষ্য- যেকোনো মূল্যে এ খালগুলো উদ্ধার করা। এ ব্যাপারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে আমাদের মিটিংও হয়েছে। তিনি খাল পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।’

হাজার খানেক দখলদারের কব্জায় থাকা খাল যদি উদ্ধার করে শহরকে ফিরিয়ে দেয়া যায় তবে প্রাণের ছোঁয়া লাগবে রুক্ষশুষ্ক নগরীতে। তখন শহরের বুকে সমুদ্র না হোক, অন্তত পরিচ্ছন্ন ও প্রবাহমান খালের ধারে হাঁটার অভিজ্ঞতা পাবে পরবর্তী প্রজন্ম!

/কেআই


  বিষয়:   নির্বাচনী ইশতেহার  খাল খনন  তারেক রহমান  খাল দখল  দখল-দূষণ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: