পাকিস্তানে অবস্থিত নিজেদের কূটনৈতিক মিশনের কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৫ মে) মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পেশোয়ারে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং কূটনৈতিক সম্পদের অধিকতর কার্যকর ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ওয়াশিংটন নিশ্চিত করেছে। এখন থেকে পেশোয়ার কনস্যুলেটের যাবতীয় কূটনৈতিক দায়িত্ব ও কার্যাবলী ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাস থেকে পরিচালিত হবে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত মূলত কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতি ওয়াশিংটনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বর্তমান পরিস্থিতিতে খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে সরাসরি উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করার চেয়ে ইসলামাবাদ কেন্দ্রিক কার্যক্রম অধিকতর যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছে বাইডেন প্রশাসন।
পেশোয়ারে ভৌত উপস্থিতি কমে গেলেও পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের নীতিগত অগ্রাধিকার এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেও বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের স্থানীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখার কাজ ইসলামাবাদ থেকেই অব্যাহত থাকবে।
কূটনৈতিক এই পরিবর্তনের ফলে পাকিস্তানে আমেরিকার প্রধান মিশনগুলো এখন ইসলামাবাদ, করাচি এবং লাহোরে সীমাবদ্ধ থাকবে। এই তিনটি শহরের মিশনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুসংহত করার প্রচেষ্টা চলবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে এবং প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মার্কিন মিশনগুলোর পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়া চলছে, এটি তারই একটি অংশ। পেশোয়ারে কনস্যুলেট বন্ধ হলেও খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে আমেরিকার নজরদারি ও সহযোগিতা আগের মতোই বজায় থাকবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট আরও জানিয়েছে যে, পেশোয়ার থেকে কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ধাপ অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে যাতে সেখানে কর্মরত স্থানীয় কর্মীদের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির নানা উত্থান-পতন ঘটেছে। ফলে মার্কিন কর্মকর্তাদের চলাচলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এমতাবস্থায় নিরাপদ ও শক্তিশালী কূটনৈতিক বলয় তৈরির লক্ষ্যে এই কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
সময়ের আলো/টিএইচ