১৯৯৬ সালে হওয়া ৩০ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ ও ভারতের গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল গঙ্গার ভাটি অঞ্চল বা নিম্ন অববাহিকার দেশ বাংলাদেশ যেন শুষ্ক মৌসুমে তার পানির ন্যায্য অধিকার পায়। যেহেতু চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে তাই এখন এটি নবায়নের জন্য দুই দেশের মধ্যে কথাবার্তা চলছে।
এরমধ্যে ভারতের বিহার রাজ্যের সরকার চুক্তি নবায়নের বিরোধীতা করছে। তারা বলেছে, গঙ্গা চুক্তির কারণে তাদের রাজ্য ও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিহারের সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী সঞ্জয় ঝা এ নিয়ে সবচেয়ে সরব আছেন। তিনি চুক্তিটি না করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে চাপ দিচ্ছেন। আর তাকে এ নিয়ে চিঠি দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গত ২৮ আগস্ট জয়শঙ্কর ওই চিঠিটি লেখেন বলে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
তিনি বিহারের সাবেক এ মন্ত্রী ও বর্তমান এমপিকে বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তির আগে বিহারের উদ্বেগ ও স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
চিঠিতে জয়শঙ্কর বলেছেন, গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে আপনাদের উদ্বেগ আমরা পুরোপুরি বুঝতে পারছি। আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সবার সাথে বিস্তৃত আলোচনার জন্য জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। এ নিয়ে ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট ও ৩০ অক্টোবর এবং ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ ও ৩১ মে আলোচনা হয়। এতে বিহার সরকারের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও লিখেছেন, এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সরকার যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।
২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিহারের পানিসম্পদমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা সঞ্জয় ঝা বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি নবায়নের কঠোর বিরোধীতা করেছেন। তার দাবি এ চুক্তি বিহারের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি বলেছেন, বিহার কোনো সুবিধা চাইছে না। আমরা আমাদের নিজস্ব বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন না করার কথা বলছি। যেন আমাদের ১৩ কোটি মানুষ আরও ৩০ বছরের জন্য খাবার, কৃষি ও শিল্পাঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় পানির অভাবে না পড়ে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ