সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের হামলা। সংগৃহীত ছবি সৌদি আরবের জাতীয় শিপিং কোম্পানির একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ভয়াবহ হামলায় ফিলিপাইনের দুই নাবিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সৌদি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে সংশিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) গভীর রাতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী সুপারট্যাংকারের একটি ‘সিদর’ হামলার শিকার হয়। অনুমতি ছাড়া সংকীর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা ট্যাংকারগুলোকে এর আগেই সতর্ক করেছিল তেহরান।
শিপিং কোম্পানি বাহরি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে ‘সিদর’-এ একটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দুই নাবিকের মৃত্যু হয়।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে রিয়াদ।
বাহরি পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সিদর’-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সামুদ্রিক শিল্পের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি
ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে, অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহনপথে যেকোনো ধরনের সংঘাত বা নিরাপত্তা সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগেও বাহরির ট্যাংকারে হামলা
এর আগে গত জুলাইয়ে ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় বাহরির মালিকানাধীন ‘ওয়েদিয়ান’ নামের আরেকটি সুপারট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছিল।
এ ছাড়া ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণার পর জুলাই ও আগস্টে লোহিত সাগরে বাহরির আরও দুটি জাহাজ ‘মাসাহা’ ও ‘আমজানে’ হামলার শিকার হয়।
সর্বশেষ ‘সিদর’ ট্যাংকারে হামলা এবং দুই ফিলিপাইনের নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের সমুদ্রপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ