মর্গে জায়গা নেই, অজ্ঞাত পরিচয়ে শত শত মরদেহ দাফন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

নেপালের সাম্প্রতিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১২৭ জনে পৌঁছেছে। এখনো প্রায় চার হাজার ৪৬২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির

2026-09-02T13:10:30+00:00
2026-09-02T13:10:47+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মর্গে জায়গা নেই, অজ্ঞাত পরিচয়ে শত শত মরদেহ দাফন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১০ পিএম  আপডেট: ০২.০৯.২০২৬ ১:১০ পিএম
নেপালে মর্গে মরদেহ রাখার জায়গা না থাকায় অনেক মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ছবি : সংগৃহীত
নেপালের সাম্প্রতিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১২৭ জনে পৌঁছেছে। এখনো প্রায় চার হাজার ৪৬২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নেপালে মর্গে মরদেহ রাখার জায়গা না থাকায় অনেক মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নেপাল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

Advertisement
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর শত শত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ দাফন করতে হয়েছে। নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অনেক পরিবার আশা ছেড়ে দিয়েছে।

তারা নিখোঁজ স্বজনদের স্মরণে প্রতীকী শেষকৃত্য শুরু করেছে। তবে উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে চীনের তিব্বত অঞ্চলে বিদেশি সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের ওপর নানা ধরনের বিধি-নিষেধ রয়েছে। ওই অঞ্চল থেকে তথ্য প্রকাশের ওপরও চীনা কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

প্রবাসী তিব্বতি অধিকারকর্মীরা দুর্যোগের বিষয়ে চীনের দেওয়া তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বেইজিংয়ের দাবি, তারা দুর্যোগের তথ্য ‘খোলামেলা, স্বচ্ছ ও সময়মতো’ প্রকাশ করেছে।

এদিকে নেপাল ও চীনে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কাজ এখনো চলছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর আরো মরদেহ পাওয়া যেতে পারে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারলে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

তবে কিছু দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ ও প্রবেশে বাধা থাকায় সেখানে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা এখনো কঠিন। উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় পরিস্থিতির পুরো চিত্র পেতে সময় লাগতে পারে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৬ আগস্ট হিমালয়ের উচ্চ এলাকায় হিমবাহ ধসের পর এই দুর্যোগ শুরু হয়। এতে বরফগলা পানি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নিচের দিকে নেমে আসে। নেপালে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটিতে আরো ৩ হাজার ৯১৬ জন নিখোঁজ রয়েছে।


চীনের তিব্বত অঞ্চলে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এ হিসাবে নেপাল ও তিব্বতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৬ জন এবং নিখোঁজ ৪ হাজার ৪৬২ জন। এদিকে ভারতের ভাটির দিকের নদীগুলো থেকেও অন্তত ১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে কয়েক দিন ধরে আশ্রয়কেন্দ্র ও মর্গে ঘুরছেন অনেক পরিবারের সদস্য। কিন্তু কোনো সন্ধান না পাওয়ায় কেউ কেউ এখন প্রতীকী শেষকৃত্য করছেন। দোলমা নেওয়ার তামাংয়ের স্বামী দুর্যোগের সময় চীনের দিকে যাচ্ছিলেন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, স্বামীর আত্মার শান্তির জন্যই তারা প্রতীকী শেষকৃত্য করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর স্বামীকে ফোন করেছিলেন। বারবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো জীবিতদের খুঁজছে। বিশেষ করে ওই এলাকার জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর টানেলগুলোতে কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত কাদায় আটকে থাকা কয়েকটি টানেল থেকে শুধু মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরও উদ্ধারকারীরা হাল ছাড়েননি। তারা ধ্বংসস্তূপ সরাতে খনন ও ড্রিলিংয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনে বিস্ফোরণ ব্যবহার করছেন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, অলৌকিক ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই এখনই তিনি পুরোপুরি আশা ছেড়ে দিতে চান না। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।

সময়ের আলো/কেএইচও
  বিষয়:   মর্গ  অজ্ঞাত পরিচয়  মরদেহ দাফন 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: