দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে জাহাজটি দেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। এর ফলে কাঁচামালের অভাবে বন্ধের উপক্রম হওয়া রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় পুরোদমে উৎপাদনে ফিরতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, মঙ্গলবার রাতে জাহাজটি বন্দর থেকে প্রায় ১৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে এটি চট্টগ্রামের কুতুবদিয়া চ্যানেলে নোঙর করার কথা রয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজই ট্যাংকার থেকে তেল খালাস (লাইটারিং) শুরু হবে এবং দ্রুততম সময়ে তা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি পরিবহন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ফলে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর দেশে অপরিশোধিত তেলের আর কোনো চালান আসেনি। দীর্ঘ দেড় মাস যাবত ইস্টার্ন রিফাইনারি তাদের পাইপলাইনে জমে থাকা ‘ডেড স্টক’ বা তলানির তেল দিয়ে কোনো রকমে কার্যক্রম সচল রেখেছিল। ৫টি ইউনিটের মধ্যে ৩টি সীমিত আকারে চললেও বাকি ২টি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ১৩ ধরনের জ্বালানির পরিবর্তে উৎপাদন নেমে এসেছিল মাত্র ২টিতে।
ইআরএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, তেল সরবরাহের সব প্রস্তুতি আমাদের নেওয়া আছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকেই ৫টি ইউনিটে পুরোদমে উৎপাদন শুরু হবে। শোধনাগারটি চালু হলে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও জেট ফুয়েলসহ ১৩ ধরনের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
এদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘এমটি ফসিল’ নামে আরও একটি ট্যাংকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে এক লাখ টন তেল নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মে মাসের শেষ নাগাদ এই চালানটি দেশে পৌঁছাতে পারে।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর ইআরএল দেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ মিটিয়ে আসছে। কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ার ঘটনা ইআরএল-এর ইতিহাসে এবারই প্রথম।
/কহু