আরব সাগরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝ সমুদ্রে আটকে পড়া একটি ভারতীয় মালবাহী জাহাজের নাবিকদের উদ্ধার ও জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে পাকিস্তান নৌবাহিনী।
ওমান থেকে ভারতের অভিমুখে যাত্রাকালে ‘এমভি গৌতম’ নামের জাহাজটি গুরুতর প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়লে মুম্বাইয়ের মেরিটাইম রেসকিউ অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন সেন্টার থেকে ইসলামাবাদের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানানো হয়।
সেই বিপদ সংকেতে দ্রুত সাড়া দিয়ে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘পিএমএসএস কাশ্মীর’ পাঠিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। জাহাজটিতে থাকা ছয়জন ভারতীয় এবং একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় খাবার ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এমভি গৌতম জাহাজটি মাঝ সমুদ্রে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাহাজটিকে স্থিতিশীল রাখাই ছিল তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
পাকিস্তান মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সির (পিএমএসএ) সহযোগিতায় পরিচালিত এই অভিযানে পাকিস্তানি নৌসেনারা আটকে পড়া ক্রুদের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি কারিগরি সহায়তা প্রদান করেন। উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে পাকিস্তানি নৌযানকে ভারতীয় নাবিকদের উদ্ধার করতে দেখা যাচ্ছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত এই সহায়তা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আরব সাগরে এটিই পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রথম মানবিক উদ্ধার অভিযান নয়। গত মাসেই উত্তর আরব সাগরে ‘এমভি গোল্ড অটাম’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে বিপদ সংকেত পাওয়ার পর পাকিস্তান নৌবাহিনী সফলভাবে ১৮ জন নাবিককে উদ্ধার করেছিল।
সেই অভিযানে বাংলাদেশ, চীন, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। করাচি উপকূল থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার দূরে পরিচালিত সেই অভিযানেও পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছিল। সাগরের প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলা করে বিদেশি নাবিকদের জীবন রক্ষায় দেশটির নৌবাহিনী নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় বিপদে পড়া যেকোনো দেশের নাবিকদের উদ্ধার করা সামুদ্রিক আইনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার রাজনৈতিক বৈরিতা থাকলেও সমুদ্রের বুকে মানবিক সংকটে এই দুই দেশ প্রায়ই একে অপরের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
এমভি গৌতমের নাবিকদের উদ্ধারের এই ঘটনাটি দুই দেশের সামুদ্রিক সমন্বয় কেন্দ্রের মধ্যকার কার্যকর যোগাযোগের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। উদ্ধারকৃত নাবিকদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং তাঁদের নিরাপদ স্থানে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান আছে বলে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
সময়ের আল/টিএইচ