ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার বা সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিকল্প ভাবলেও, এই মুহূর্তে কূটনৈতিক আলোচনা এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত আকারে হামলার নীতিতেই আস্থা রাখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনোড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ বা হামলার বিষয়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। কর্মকর্তাদের অনেকেই এই আলোচনাকে ‘কাজটি শেষ করা’ (ফিনিশিং দ্য জব) হিসেবে বর্ণনা করলেও, ট্রাম্প মনে করছেন এই মুহূর্তে নতুন করে বড় যুদ্ধে জড়ালে ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণসহ চলমান সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যেতে পারে।
কূটনৈতিক আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরান ৬০ দিনের একটি সময়সীমায় সম্মত হওয়ার পর বর্তমানে পর্দার আড়ালে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী ১৮ আগস্টের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও আলোচনা চালিয়ে যেতে তার আপত্তি নেই। তবে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইরান লঙ্ঘন করলে কঠোর জবাব হিসেবে সীমিত ও সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন তিনি।
গত বুধবার ক্যাপিটল হিলে রিপাবলিকান সিনেটরদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর ট্রাম্প সরাসরি বলেন, আমি যা যা চাচ্ছি, তারা (ইরান) তার সবকিছুতেই সম্মত হচ্ছে এবং তাদের তা হতেই হবে... অন্যথায় আমাদের যা করার, তা করার জন্য আমরা আবার আগের অবস্থানে ফিরে যাব।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প সব সময়ই কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করেন এবং ইরানের বর্তমান সরকারের উচিত এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে আমেরিকার সঙ্গে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছানো। তবে কূটনীতি ব্যর্থ হলে সামরিক বিকল্পও ট্রাম্পের হাতে প্রস্তুত রয়েছে।
আমেরিকা ও ইরানের এই আলোচনা এগিয়ে নিতে কাতারের মধ্যস্থতায় দোহার একটি টেবিলে আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলের হয়ে সেখানে অবস্থান করছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। পাশাপাশি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এক সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ইরান যদি দীর্ঘমেয়াদে তাদের পরমাণু অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে রাজি হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের আমূল পরিবর্তন করতে প্রস্তুত।
সবুজ সংকেতের মাঝেও কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গেছে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের কণ্ঠে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান এখনো আশানুরূপ সহযোগিতা করছে না। তেহরান তাদের পরমাণু কর্মসূচির ওপর বড় কোনো নিষেধাজ্ঞা মানবে না বলে জানালেও, ট্রাম্পের দাবি, তারা পরমাণু স্থাপনা ভেঙে ফেলার বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এরই মধ্যে যেকোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি ও আকস্মিক যুদ্ধ এড়াতে একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসিপি)-এর মধ্যে একটি সরাসরি যোগাযোগের লাইন বা ‘ডিকনফ্লিকশন চ্যানেল’ চালু করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজ নিশ্চিত করেছে, রাজনৈতিক অচলাবস্থা সত্ত্বেও দুই বাহিনী ইতিমধ্যেই এই হটলাইনটি ব্যবহার করা শুরু করেছে।
সময়ের আলো/কহু