স্বাস্থ্য-জনসেবা সহজীকরণ ও ডিজিটাল প্রশাসনে জোর

রফিকুল ইসলাম সবুজ

জাতীয়

মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, জনসেবা সহজীকরণ এবং বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে বুধবার শেষ হয়েছে চার দিনব্যাপী

2026-05-07T01:39:15+00:00
2026-05-07T01:39:15+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
স্বাস্থ্য-জনসেবা সহজীকরণ ও ডিজিটাল প্রশাসনে জোর
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১:৩৯ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, জনসেবা সহজীকরণ এবং বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে বুধবার শেষ হয়েছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। এবারের সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জেলা পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়নের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে কিছু প্রস্তাব নাকচ করা হয়েছে বাস্তবতা ও নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে। যেমন জেলা প্রশাসকদের জন্য পৃথক বিশেষ ভাতা বৃদ্ধি এবং নতুন সরকারি গাড়ি বরাদ্দের প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয় নাকচ করেছে।
 
একইভাবে উপজেলা পর্যায়ে অতিরিক্ত প্রশাসনিক পদ সৃষ্টির প্রস্তাবটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কিছু প্রস্তাব আংশিক সংশোধনসহ পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। যেমন মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবটি নিয়ে আইনি জটিলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আরও বিশদ আলোচনা প্রয়োজন বলে মত দেওয়া হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে নিরপরাধ ব্যক্তি বা সাংবাদিকরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে ডিসিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিজিটাল প্রশাসন গড়ে তোলার বিষয়টি এবারের সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রশাসনিক কার্যক্রমে ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করার বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারি সেবা দ্রুত ও সহজলভ্য করতে ই-গভর্ন্যান্স সম্প্রসারণ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার’-এ রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালুর সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) পুরোপুরি অনলাইনে নেওয়ার প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরের মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে জেলা পর্যায়ে ফ্যাক্ট-চেকিং সেল গঠনের প্রস্তাবও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হওয়া অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর জেলাভিত্তিক তথ্য যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ ইস্যু করা প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা না পড়ায় এগুলো দ্রুত জমা ও উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এবারের ডিসি সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। জেলা প্রশাসকরা মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা তুলে ধরে জানান, দ্রুত বিচার কার্যক্রম জোরদার, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ দমনে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এ প্রেক্ষিতে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমন্বয় আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক জেলায় নিয়মিত সমন্বয় সভা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি থানায় হয়রানি কমাতে অনলাইন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়। 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে জেলা পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো, কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার এবং পুলিশি কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন জেলার ডিসিরা মাঠ পর্যায়ে জনবল সংকট ও সমন্বয়হীনতার বিষয়টি তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমাধানের আশ্বাস দেয়।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা অংশ নেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, ৮ বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ ডিসির পাঠানো ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে ৩৪টি কার্য অধিবেশনে আলোচনা হয়। আলোচনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন। সম্মেলনে উপজেলা পর্যায়ে অন্তত একটি করে অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করা, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদার, সাপের কামড়ের প্রতিষেধক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রবীণদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা কাটাতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলা পর্যায়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি দূর করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। ডিসিরা প্রস্তাব করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা চালু করা হোক। এই প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হলেও বাজেট সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পায়ন নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব সম্মেলনে ওঠে। কিছু জেলায় নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং সরকারি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে নীতিগত সমর্থন দেওয়া হয়েছে। তবে উচ্চ ব্যয়সম্পন্ন কিছু অবকাঠামো প্রকল্প আপাতত নাকচ করা হয়েছে। নাকচ হওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠন, স্বল্প জনসংখ্যার এলাকায় বড় অবকাঠামো প্রকল্প নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কিছু স্থানীয় উদ্যোগ।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষক সংকট দূর করতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা আরও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মনিটরিং ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

ভূমি অফিসে সেবা পেতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে অনলাইন সেবা সম্প্রসারণ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিসিরা ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দিলেও প্রস্তাবটি তাৎক্ষণিকভাবে গৃহীত হয়নি; বরং বিষয়টি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়।

সম্মেলনের বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার এবং স্থানীয় পর্যায়ে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষিপণ্যের সরাসরি বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিসিরা কৃষকদের জন্য সহজশর্তে ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন, যা নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়।

সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সরাসরি মতবিনিময়। এতে মাঠ প্রশাসনের নানা সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো সরাসরি তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনকে জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সার্বিকভাবে চার দিনের এই ডিসি সম্মেলনকে প্রশাসনিক সংস্কার ও উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা। মাঠ প্রশাসনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব সমস্যাগুলো সরাসরি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার মাধ্যমে এই সম্মেলন দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদী।

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল প্রথম ডিসি সম্মেলন। ফলে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এবারের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, অতীতের ডিসি সম্মেলনের প্রায় ৪৪ শতাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। এবারের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে তদারকি জোরদার করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিসি সম্মেলনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে জনসেবা সহজ হবে, প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে এবং জেলা পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সম্মেলন শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব প্রস্তাব স্থগিত বা নাকচ করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন মাঠ প্রশাসনকে আরও দক্ষ, পেশাদার ও জনবান্ধব হয়ে কাজ করতে হবে। সরকারি সেবার মান বাড়ানো এবং সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ডিসিদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়ানো দরকার।

সাংবাদিক হওয়ার নীতিমালা চান ডিসিরা : সাংবাদিক হওয়ার জন্য একটা নীতিমালা থাকা দরকার বলে জানিয়েছেন ডিসিরা। সরকারও নীতিমালা এবং রেগুলেশনের কথা ভাবছে, এটা দ্রুতই করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য মন্ত্রণালয়-বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-বিষয়ক কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, খুব সহজে মিডিয়া অনেকে চালু করছেন, অনলাইন বেসড। ডিসিদের মতে, সেখানে কখনো কখনো তারা এ সমস্যা ফেইসও করেন যে, নীতিমালার একটা অভাব আছে। সুতরাং তাদের একটা এক্সপেকটেশন হলো, সাংবাদিক হওয়ার জন্য একটা নীতিমালা থাকা দরকার এবং সাংবাদিকদের একটা ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ থাকা দরকার, যেটা তারা ফলো করবেন, সেই ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব পালনে সুবিধা হবে। একটা নীতিমালা এবং রেগুলেশনের কথা আমরা আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ভাবছি এবং এটা আমরা দ্রুতই করব।

‘ফোকাল পার্সন’ পাচ্ছেন ডিসিরা : মাঠ পর্যায়ে সাংবাদিকদের তথ্য সরবরাহের জন্য ‘ফোকাল পার্সন’ নিয়োগ দিতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ দিন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-বিষয়ক কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্তরের যে কর্মকর্তারা, তারাই তথ্যটাকে ডিসেমিনেট করবেন, এটাই তো স্বাভাবিক। তবে আমি আগেই যে কথা বলছিলাম, যে যেহেতু একসময় প্রেস মানেই ছিল মিডিয়া, এখন তো প্রেস মানে আর মিডিয়া না। এখন মিডিয়া তো মাসকমিউনিকেশন, যেখানে ব্রডকাস্টিং থেকে শুরু করে, টেলি কমিউনিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়া, ইন্টারনেট কমিউনিকেশন সবই পড়ে। আপনাদের যে চাহিদা আর সরকারের যে প্রস্তুতি, এর মধ্যে একটা ব্যবধান আছে। তবে নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা এই দুর্বলতাগুলোকে যেহেতু চিহ্নিত করতে পেরেছি। অতএব দ্রুতই একটা আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যে আমরা প্রবেশ করতে পারব। সেই প্রস্তুতি নেওয়ার জন্যই জেলা প্রশাসকদের বলেছি।

দুর্নীতি প্রতিরোধে ডিসিদের সহযোগিতা চায় দুদক : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধ প্রচারাভিযানের জন্য জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদক-সংক্রান্ত কার্য অধিবেশন শেষে দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম সাংবাদিকদের বলেন, দুদকের বর্তমান কাঠামোতে যে কাজগুলো করা হচ্ছে সে সম্পর্কে ডিসিদের ধারণা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক যে কাজগুলো আছে সেখানে তাদের ভূমিকা রয়েছে। বিশেষত দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে বলা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবিরোধী লিফলেট ও সততা স্টোর চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সততা স্টোর আছে। এ স্টোরগুলো অনেক ক্ষেত্রেই খুব ভালোভাবে কাজ করছে না। ডিসিরা যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান সেখানে এগুলো ভালোভাবে চলছে কি না সেই জিনিসগুলো দেখবেন, কোথাও সহযোগিতার দরকার হলে আমাদের জানাবেন। আমরা সহযোগিতা করব।

ইদানীং মাঠ পর্যায়ে দুদক অথবা বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে কিছু প্রতারণার অভিযোগ আসছে উল্লেখ করে সচিব বলেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা তাদের একটু সতর্ক করেছি। এমনকি আমাদের কর্মকর্তাদের নাম দিয়েও যদি এ ধরনের কোনো প্রচারণা তারা চালায়, অবশ্যই যেন তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের ১০৬ হটলাইন নম্বরও জানিয়ে দেওয়া হয়। আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেব।

সময়ের আলো/জেডি 



  বিষয়:   স্বাস্থ্য-জনসেবা  ডিজিটাল প্রশাসন  ডিসি সম্মেলন 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: