জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও ওষুধের পরনির্ভরশীলতা কমাতে সরকারি উদ্যোগে প্রথমবারের মতো দেশে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক ও হামের টিকা এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করতে যাচ্ছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড।
এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ টিকার চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানির এক বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের বাজারে এসব টিকার বিপুল চাহিদা ও জীবন রক্ষাকারী প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে সরকার এই প্রকল্পটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এ সামাদ মৃধা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে এই জরুরি প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, হাম ও বিষধর সাপের কামড় বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে এসব রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই এই টিকা ও প্রতিষেধক উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা।
কর্তৃপক্ষ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, আগামী এক বছরের মধ্যেই এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ টিকার চূড়ান্ত উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে এসব টিকা উৎপাদন করে সরকারের কাছে সরবরাহ করা শুরু হবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ভায়াল টিকা উৎপাদন করার সক্ষমতা তৈরি হবে বলে এসেনশিয়াল ড্রাগস সূত্রে জানানো হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এই টিকাগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের বড় ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের বাজারে এসব জীবন রক্ষাকারী টিকা ও অ্যান্টিভেনমের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা বেশ ব্যয়বহুল এবং অনেক সময় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়।
সরকারি এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড এই মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ওষুধ শিল্পে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে যাচ্ছে।
সময়ের আলো/টিএইচ