রড কিংবা সিমেন্ট নয়, বরং শিক্ষা ও মেধার বিনিময়ই হবে আগামী দিনে চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি। শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন শিক্ষা সহযোগিতা ফোরাম’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন এ মন্তব্য করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রড-সিমেন্টের অবকাঠামো দিয়ে সম্পর্কের গভীরতা মাপা যায় না। চীন যেভাবে তাদের বিশাল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করেছে, জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য তা এক অনন্য উদাহরণ। আমরা সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে শিক্ষাকেই বেছে নিতে চাই।
দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে শুধু পরীক্ষা আর জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক পড়াশোনার সংস্কৃতি আর চলবে না। আমরা কারিগরি ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে চীনের সঙ্গে বিশেষ শিক্ষা প্রোগ্রাম চালু করতে যাচ্ছি। এমনকি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজারের উপযোগী করতে তৃতীয় একটি ভাষাকে আমরা পাঠ্যক্রমে আবশ্যিক করার উদ্যোগ নিয়েছি।
শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে মিলন আরও জানান, বর্তমান সরকার কোয়ালিটি এডুকেশন বা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, আমাদের স্কুল-কলেজের যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তা দূর করতে নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় আমরা শিক্ষা খাতের গুণগত মানোন্নয়নে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছি।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিশ্বমানের প্রযুক্তি যুক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে এবং নৈতিকতা চর্চায় শিগগিরই ‘নতুন কুঁড়ি’ কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
/কহু