দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারের জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত সারাদেশে ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ জন শিশু হাম-রুবেলার টিকা গ্রহণ করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম-রুবেলা টিকার সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই সংখ্যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ। সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, যেসব এলাকায় শতভাগ টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে কমতে শুরু করেছে।
আঞ্চলিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৭০ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭২ জন শিশু টিকা পেয়েছে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২০ লাখ ২০ হাজার ৩৭৩ জন, রংপুর বিভাগে ১৮ লাখ ৬২ হাজার ১৯৬ জন, খুলনা বিভাগে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৪৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১২ লাখ ৯৪ হাজার ১৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।
বরিশাল বিভাগে টিকা নিয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ৩০১ জন শিশু। সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে যথাক্রমে ৪ লাখ ৯০ হাজার এবং ৩ লাখ ৯৬ হাজারের বেশি শিশু এই সুরক্ষা পেয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশে হামের প্রকোপ কমতে শুরু করেছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই শতভাগ শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার টিকা হাতে পাওয়ার পরপরই নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত বিতরণ শুরু করেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত টিকাদান কার্যক্রম শুরুর দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণের হার হ্রাস পায়, যা বর্তমানে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য যে, গত ৫ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, যা বর্তমানে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে চলমান এই বিশেষ ক্যাম্পেইন সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ মে এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ১২ মে পর্যন্ত চলবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টিকাদান কেন্দ্রগুলো খোলা থাকছে। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে দ্রুতই হাম পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/টিএইচ