নাজমুল হোসেন শান্ত। ছবি : সংগৃহীত মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কঠিন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেছেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরির ইনিংস। সেই সঙ্গে গড়েছেন একের পর এক রেকর্ডও। তবে ব্যক্তিগত অর্জন বা পরিসংখ্যান নিয়ে খুব একটা ভাবতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার কাছে সবচেয়ে বড় তৃপ্তি দলের জন্য অবদান রাখতে পারা। আর সেট হয়ে গেলে ইনিংস বড় করার মানসিকতাই এখন তার ব্যাটিংয়ের মূল দর্শন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে ১৩০ বলে ১০১ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন শান্ত। ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো সেই ইনিংসে তিনি গড়েছেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড। সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হককে নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ১৭০ রানের জুটি গড়েন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ডও এখন তার দখলে।
নেতৃেত্বের ৩০ ইনিংসে এটি তার পঞ্চম শতরান। ৪০ টেস্টের ক্যারিয়ারে শান্তর সেঞ্চুরি এখন ৯টি, সঙ্গে আছে ১৪টি হাফসেঞ্চুরি। পরিসংখ্যানের বিচারে ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার হারে কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের সঙ্গেও উচ্চারিত হচ্ছে তার নাম। তবে এসব রেকর্ড নিয়ে ভাবতে রাজি নন টাইগার অধিনায়ক।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে ব্রডকাস্ট চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শান্ত বলেন, ‘খুব বেশি রেকর্ডের দিকে যেতে চাই না। ভালো লাগে যখন দলে অবদান রাখতে পারি। গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় সবসময় আমার মাথায় থাকে, আমি কীভাবে সেট হলে বড় রান করতে পারি। যদিও কালকের ইনিংসটা আরও বড় হতে পারত। কিন্তু আমার মনে হয়, যতটুকু ব্যাটিং করেছি, ভালো হয়েছে।’
বাংলাদেশের হয়ে তার চেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরি আছে কেবল দুই সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকের। দুজনেরই সেঞ্চুরি ১৩টি করে। তবে শান্তর বিশেষত্ব অন্য জায়গায়ও। তার ৯ সেঞ্চুরির মধ্যে দুটি এসেছে জোড়া সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটার হিসেবে এক টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই কীর্তি গড়েন শান্ত। তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস ১৬৩ রান, ২০২১ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য দেখালেও এখনও ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পাননি তিনি। বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি আছে মুশফিকুর রহিমের। এ ছাড়া একটি করে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল।
তবে শান্ত বিশ্বাস করেন, সেই অপেক্ষাও বেশিদিন নয়, ‘ডাবল সেঞ্চুরি আসা উচিত। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি আসবে। ব্যাটিং ভালো হচ্ছে।’ মিরপুরে তার সেঞ্চুরির মুহূর্তটিও ছিল দৃষ্টিনন্দন। মোহাম্মদ আব্বাসের বলকে কপিবুক কাভার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে পূর্ণ করেন শতরান। তবে পরের বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরতে হয় তাকে। রিভিউতে আউট নিশ্চিত হলে হতাশ মুখে মাঠ ছাড়েন। যদিও সেই আউট নিয়ে খুব বেশি আক্ষেপ নেই শান্তর, ‘কালকের (শুক্রবার) আউট নিয়ে আক্ষেপ আছে, বলব না। ওই যে বললাম, ব্যাটিংটা ভালো হচ্ছে। অবশ্য দলের ওই অবস্থানে ইনিংসটা আরও বড় করা উচিত ছিল।’
শান্তর ধারাবাহিকতাও এখন চোখে পড়ার মতো। সবশেষ আট ইনিংসেই করেছেন চারটি সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০১, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১০০ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৪৮ ও অপরাজিত ১২৪ রান। এই ধারাবাহিকতার রহস্য কী? শান্তর উত্তর ছিল সহজ, ‘কোনো রহস্য নেই। আমি বরাবরই একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করি। সাফল্য পেতে প্রতিদিন কষ্ট করি। সততার সঙ্গে দলে অবদান রাখার চেষ্টা করি। ফল নিয়ে কখনো চিন্তা করি না। সবসময় নিজের স্কিলের ওপর আস্থা রাখি।’
সময়ের আলো/আআ