ছবি : সংগৃহীতবিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথ এল ক্লাসিকো। মাঠের লড়াই, তারকাদের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব আর দুই দলের সমর্থকদের আবেগ— সব মিলিয়ে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হওয়া মানেই বাড়তি উত্তেজনা। এবারের লড়াইয়ে সেই উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে দুই দলের পয়েন্টের ব্যবধান, বার্সেলোনার দুর্দান্ত ছন্দ এবং রিয়াল মাদ্রিদের ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ। রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
লা লিগায় প্রথম নয় ম্যাচের সবকটিতে জিতে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে তারা। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরে মৌসুমের প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। এর আগে লা লিগায় রিয়াল বেতিসকে তাদের মাঠে ৫-২ গোলে হারিয়েছিল কাতালানরা।
রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জিতলে লিগের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াবে নয় পয়েন্টে। মৌসুমের এই পর্যায়ে এমন ব্যবধান শিরোপার লড়াইয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে জয় পেলে ব্যবধান কমিয়ে লড়াইয়ে ফেরার সুযোগ পাবে রিয়াল।
ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় বার্সা
বার্সেলোনার সামনে এবার নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি। লা লিগার ইতিহাসে মৌসুমের প্রথম নয় ম্যাচ জয়ের কীর্তি রয়েছে মাত্র দুই দলের। চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার আগে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে এমন কীর্তি গড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এবার এল ক্লাসিকো জিতে টানা দশম জয় তুলে নিতে পারলে লিগের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে মৌসুমের প্রথম ১০ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়বে বার্সা। গোলের হিসাবেও দুর্দান্ত ছন্দে ফ্লিকের দল। প্রথম নয় ম্যাচে তাদের গোল ৩৯টি। লা লিগার ইতিহাসে এই সময়ে এর চেয়ে বেশি গোল করার নজির রয়েছে কেবল সেভিয়ার। ১৯৪০-৪১ মৌসুমে প্রথম নয় ম্যাচে ৪২ গোল করেছিল দলটি।
রিয়ালের বিপক্ষে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও বার্সেলোনার পক্ষে। দুই দলের সর্বশেষ সাত দেখায় ছয়টিতেই জিতেছে কাতালানরা। নিজেদের মাঠে লা লিগায় রিয়ালের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই ম্যাচেও জয় পেয়েছে তারা। গত মৌসুমে ২-০ গোলের জয়টি শিরোপা নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছিল বার্সাকে। তবে রিয়ালকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। লিগে বার্সেলোনার মাঠে তাদের সর্বশেষ ছয় সফরের তিনটিতেই জয় পেয়েছে মাদ্রিদের দলটি।
ইয়ামাল-এমবাপের দ্বৈরথ
এল ক্লাসিকোর অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছেন লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপে। চলতি লা লিগায় নয় ম্যাচে আট গোল করেছেন বার্সেলোনার তরুণ উইঙ্গার।
মৌসুমের শুরুতে প্রথম দুই ম্যাচে গোল বা গোলে সহায়তা না পেলেও পরের ছয় ম্যাচে আট গোল ও ছয়টি অ্যাসিস্ট করেছেন। অন্যদিকে বার্সেলোনার বিপক্ষে এমবাপের রেকর্ডও সমৃদ্ধ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কাতালানদের বিপক্ষে ১০ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন ফরাসি তারকা। সেভিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরবি লাইপজিগের বিপক্ষেও গোল পেয়েছেন।
রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া বলেন, ‘আমাদের দলে আছে এমবাপে আর জুড বেলিংহাম। ওদের আছে রাফিনহা আর লামিনে ইয়ামাল— যারা কি না অসাধারণ খেলোয়াড়।’ দুই দলেই এখন রয়েছে ধ্বংসাত্মক আক্রমণভাগ, যা এক অগ্নিগর্ভ ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ের পথ প্রস্তুত করে দিয়েছে। তবে রিয়ালের জন্য দুঃসংবাদ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে পাচ্ছে না। চার ম্যাচের ঘরোয়া নিষেধাজ্ঞায় থাকায় ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের অনুপস্থিতিতে এমবাপের ওপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে। চোটের কারণে রদ্রিগো, মেন্দি ও রাউল আসেনসিওর খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে বার্সেলোনাও পূর্ণ শক্তির দল পাচ্ছে না। চোটের কারণে দানি ওলমো, রুনি বার্দঘজি, আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন ও এরিক গার্সিয়া থাকছেন না। গোড়ালির সমস্যায় জুলস কুন্দের খেলা নিয়েও সংশয় রয়েছে। তবে আক্রমণে ইয়ামাল ও রাফিনহা ঘিরেই পরিকল্পনা সাজাবেন ফ্লিক।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে