যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
সোমবার (১১ মে) মামলার চার্জশিটের ওপর শুনানি শেষে যশোর জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতের অতিরিক্ত পিপি নূর আলম পান্নু পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র জমা না দিয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের সকল অস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে শাহীন চাকলাদার তার লাইসেন্স করা পিস্তলটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেননি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তারেক মোহাম্মদ আল নাহিয়ান তদন্তে জানতে পারেন, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিনেই শাহীন চাকলাদার ওই অস্ত্রসহ আত্মগোপনে চলে যান। সরকারি আদেশ অমান্য করে অস্ত্রসহ পলাতক থাকায় সেটি অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করে ২০২৫ সালের ২৮ মে কোতোয়ালি থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্ত শেষে পুলিশ শাহীন চাকলাদারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে সোমবার আদালত তা গ্রহণ করেন এবং আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম আইনি খড়গ নয়।
এর আগে গত বছরের ২২ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় আদালত তাকে চার বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছিলেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ জনতা যশোর শহরে তার মালিকানাধীন একটি পাঁচ তারকা হোটেল এবং বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করেছিল।
বর্তমানে শাহীন চাকলাদার পলাতক রয়েছেন এবং তার অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পর্যায়ে জনশ্রুতি রয়েছে, ৫ আগস্টের ঘটনার আগে সপরিবারে আত্মগোপন করা এই সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমানে ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই তিনি জনসম্মুখে অনুপস্থিত। আদালত কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/টিএইচ