জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও একজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) বস্ত্র অধিদফতরের (কারিগরি) সহকারী পরিচালক মো. ফয়সাল কবির আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেন। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন আদালত। তবে আসামি বেনজীর আহমেদ পলাতক থাকায় তার পক্ষে সাক্ষীকে জেরা করা সম্ভব হয়নি।
এ নিয়ে মামলায় মোট ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহানুর রহমান।
এর আগে গত ৩ মে একই আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন। আর গত ৮ মার্চ আদালত মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ৩০ নভেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ১২ কোটি টাকার সম্পদ দেখালেও তদন্তে প্রায় ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি।
তদন্তে তার বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে প্রায় ৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা শনাক্ত করা হয়েছে। ব্যয় বাদ দিলে তার নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় প্রায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থের প্রকৃত উৎস ও মালিকানা গোপন রেখে বেনজীর আহমেদ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।
সময়ের আলো/আরবিএন