দেশের ওষুধ শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এমএ মুহিত।
সোমবার (১১ মে) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শিল্পের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি যখন তখন ওষুধের দাম বাড়িয়ে সাধারণ জনগণ ও সরকারকে কোনোভাবেই সংকটে ফেলা যাবে না।
স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এমএ মুহিত বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপট ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি, কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য খাতের প্রতিটি স্তরে একটি ভগ্নদশা পরিলক্ষিত হয়েছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে দেশের হাসপাতালগুলোতে ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় কোথাও অবকাঠামো থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে, আবার কোথাও ওষুধের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে বৈশ্বিক অস্থিরতা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মুনাফা করবে—এটি স্বাভাবিক। অন্য সব পণ্যের দাম বাড়লে ওষুধের দাম বছরের পর বছর অপরিবর্তিত রাখা যেমন যুক্তিসঙ্গত নয়, তেমনি এমন কোনো অনিয়ন্ত্রিত নীতিমালাও গ্রহণযোগ্য নয় যার সুযোগ নিয়ে যখন খুশি দাম বাড়ানো যায়।
তিনি গুরুত্বারোপ করেন, সরকার ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে একটি সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওষুধের দাম সমন্বয় করতে হবে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করাকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন।
অধ্যাপক ডা. এমএ মুহিত বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাদের সমস্যাগুলো সরকার অবগত আছে এবং সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে যদি সম্মিলিতভাবে সমস্যার সমাধান না করা হয়, তবে দেশ ও শিল্প উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল এটিএম ইসলামসহ বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন প্রতিনিধি ও ওষুধ শিল্পের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
সময়ের আলো/টিএইচ