অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখতে পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি,

2026-05-12T00:49:31+00:00
2026-05-12T00:49:31+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখতে পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১২:৪৯ এএম 
ঢাকার তেজগাঁওয়ে পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সরকারের আপসহীন অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের সঙ্গে আমরা আপস করতে চাই না। অনেক সময় আমরা দেখেছি, আপনাদের একটি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাবশালী পরিচয় এ রকম বিষয় আপনাদের ফেস করতে হয়। আমি পরিষ্কারভাবে আজকের অনুষ্ঠানে বলতে চাই, দুর্নীতি-সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নয়, যে বা যারা অপরাধে লিপ্ত হবে তাকে আপনারা অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করবেন।

‘কোনো ব্যক্তি বা দল কিন্তু আপনাদের দল নয়। বরং আপনারা আইনের এ রক্ষক এ জিনিসটা কিন্তু আপনাদের মনে রাখতে হবে। আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হবে আইনগত ও মানবিক।’  পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কঠোরভাবে বজায় রাখতে পুলিশের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে তিনি এ নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্য সব কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণেও আপনাদের কার্যক্রমে একটা উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় হয়। এটা দায়িত্বেরই অংশ, এটা কম-বেশি পৃথিবীর সব দেশেই হয়ে থাকে। ‘বর্তমান সরকার অবশ্যই জনগণের গণতান্ত্রিক-রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত রাখতে চায়। কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি (বিনষ্ট) কিংবা কোনো রকম নাশকতামূলক কার্যক্রমে লিপ্ত হতে না পারে, এটিও কিন্তু আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, আমরা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে এসেছি। ঠিক একইভাবে কিন্তু জনপ্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসনের কোনো পদ কিন্তু কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।’

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্বের যেকোনো দেশে একটি সরকারের সাফল্যের জন্য দক্ষ, সাহসী, সৎ ও নিরপেক্ষ পুলিশ প্রশাসনের বিকল্প কোনো কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। বিপদে পড়লে যেকোনো পেশার মানুষ আপনাদের কাছে যায়। অর্থাৎ লোকাল থানায় যায়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেখানে দায়িত্বশীল যে পুলিশ সদস্যরা থাকেন, তারা যদি আন্তরিকভাবে চান তা হলে আইনি ও কৌশলী ভূমিকা নিয়ে অনেক ঘটনার শুরুতেই নিষ্পত্তি করা যায়।
পুলিশের আস্থা ও নির্ভরতা সৃষ্টি হলে মব ভায়োলেন্স সুন্দরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা সবাই একই মতাদর্শের নাও হতে পারি, কিন্তু আপনারা যখন সরকারের সঙ্গে কাজ করবেন, সেই কাজের মধ্যে যেন নিজেদের ভিন্ন মতাদর্শ প্রতিফলিত না হয়।

‘আমি খোলা মনে বলি, আমি মনে করি না যে, সবাই আমরা একই আদর্শ বিশ্বাসী, রাজনৈতিক বিশ্বাসেও ভিন্নমত থাকতে পারে। প্রত্যেকের ভিন্ন মতের প্রতিফলন হবে কেবল ভোটের বাক্সে, সরকারি কার্যক্রমে নয়। তার আগে আমরা সবাই এই দেশটাকে ভালোবাসব। দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক থাকব।’

এই সরকার পুলিশ বাহিনীকে এমন একটা রূপ দিতে চায়, যেখানে পুলিশ সত্যিকারভাবে হবে জনবান্ধব এবং সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যেকোনো দেশেই সাধারণত পুলিশ প্রশাসনকে সরকারের আয়না মনে করা হয়। কারণ মানুষ বিপদে পড়লে আপনাদের কাছে প্রথমে যায়। আপনাদের রেসপন্সের ওপর মানুষ ধরে নেয় সরকারটা কেমন। কাজেই পুলিশ প্রশাসন সফল হলে কার্যত সরকারের সফলতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। আমার মনে হয়, এ নিয়ে কারও মধ্যে সংশয় থাকার প্রয়োজন নেই।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে নাগরিকদের সামাজিক-অর্থনৈতিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে আনতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে, উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে অপরাধের ধরন পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরন বদলে যাওয়ায় পুলিশের কাজের পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে। এটি এখন আর শুধু শহর বা জেলার সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম এখন বৈশ্বিক বাস্তবতা। এ কারণেই প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে আরও বহুমুখী দক্ষতায় সমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। বিশ্বের যেকোনো দেশে সরকারের সাফল্যের জন্য দক্ষ, সাহসী, সৎ ও নিরপেক্ষ পুলিশ প্রশাসনের কোনো বিকল্প নেই।

সরকার পুলিশ বাহিনীর কল্যাণ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মূল নীতি। এই নীতি বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। পুলিশের দায়িত্ব যেহেতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না এবং দিন-রাত এমনকি ছুটির দিনেও কাজ করতে হয়, তাই পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।

তারেক রহমান বলেন, পুলিশ প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু পদ নয়, বরং প্রতিটি পদই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কর্মকর্তা যে পজিশনেই দায়িত্বরত থাকুন না কেন, প্রশাসনের সব পদে কাজ করার পেশাদার মানসিকতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। শুধু পদোন্নতি কিংবা পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের প্রত্যাশা করলে তা পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস হয়ে যায়। নিজের চাহিদা অনুযায়ী পোস্টিং পেলে সাময়িকভাবে তুষ্ট হওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু এটি প্রফেশনালিজমের পরিপন্থী। তাই আহ্বান থাকবে, যার যেখানে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, সেই কাজটি গুরুত্বসহকারে পালন করুন। তবেই আমরা একটি দক্ষ, গতিশীল এবং পেশাদার পুলিশ প্রশাসন গড়ে তুলতে পারব।

প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠান শেষে হাঁটতে হাঁটতে কুশল বিনিময় করেছেন। পরে কার্যালয়ের টাইগার গেটের সামনে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোশেসনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।


  বিষয়:   পুলিশ  প্রধানমন্ত্রী  অপরাধ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: