ক্রিশ্চিয়ান জায়নিজম : বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী ও ভূ-রাজনীতির এক জটিল সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের পেছনে কেবল কৌশলগত বা আঞ্চলিক স্বার্থই নয়, বরং কাজ করছে এক

2026-05-13T09:47:09+00:00
2026-05-13T09:47:09+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ক্রিশ্চিয়ান জায়নিজম : বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী ও ভূ-রাজনীতির এক জটিল সমীকরণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:৪৭ এএম 
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের পেছনে কেবল কৌশলগত বা আঞ্চলিক স্বার্থই নয়, বরং কাজ করছে এক গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস- যার নাম ‘ক্রিশ্চিয়ান জায়নিজম’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে থাকা অনেক প্রভাবশালী সদস্য এই মতাদর্শে বিশ্বাসী। তারা মনে করেন, ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়া কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি বাইবেলের বিধান পালন।

ক্রিশ্চিয়ান জায়নিস্টদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ইহুদিরা যদি তাদের পবিত্র ভূমিতে ফিরে আসে, তবেই যিশু খ্রিস্টের ‘দ্বিতীয় আগমন’ ঘটবে এবং পৃথিবী ধ্বংসের আগের চূড়ান্ত সময় বা ‘এন্ড টাইমস’ শুরু হবে। তাদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী খ্রিস্টানরা অলৌকিকভাবে স্বর্গে তুলে নেওয়া হবে, যাকে তারা ‘র‍্যাপচার’ বলে অভিহিত করেন। এই বিশ্বাসের কারণেই তারা ইসরায়েলের ফিলিস্তিন দখল ও বসতি স্থাপনকে ধর্মীয়ভাবে বৈধ মনে করেন।

ক্রিশ্চিয়ান জায়নিজমের শিকড় প্রোথিত ১৬শ শতাব্দীর ইউরোপে। প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কারের সময় থেকেই অনেক ধর্মতত্ত্ববিদ মনে করতেন, ইহুদিদের ইসরায়েলে ফিরে আসা ছাড়া বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী পূরণ সম্ভব নয়। ১৭শ শতাব্দীতে পিউরিটানরা যখন উত্তর আমেরিকায় পাড়ি জমায়, তখন তারা এই ধারণাটিও সাথে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯শ শতাব্দীতে জন নেলসন ডার্বির হাত ধরে এটি একটি সুসংগঠিত আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৯১৭ সালের ঐতিহাসিক ‘বেলফোর ঘোষণা’র পেছনেও এই খ্রিস্টীয় জায়নবাদের প্রভাব ছিল অনস্বীকার্য।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৭ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ ইভানজেলিকাল প্রোটেস্ট্যান্ট, যারা ক্রিশ্চিয়ান জায়নিজমের মূল ভিত্তি। ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ যেমন- প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এবং হাউস স্পিকার মাইক জনসন এই মতাদর্শের কট্টর সমর্থক।

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা পলা হোয়াইট-কেইন সরাসরি বলেছেন, ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ানো কোনো রাজনীতি নয়, এটি সৃষ্টিকর্তার বাণীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলা। এমনকি ২০১৮ সালে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের পর ট্রাম্প স্বীকার করেছিলেন, তিনি এটি ইভানজেলিকালদের সন্তুষ্ট করতেই করেছেন।

মিডল ইস্ট আইয়েরর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সমর্থনকে স্বাগত জানালেও অনেক ইহুদি পন্ডিত একে ‘অ্যান্টিসেমিটিজম’ বা ইহুদি-বিদ্বেষের অন্য রূপ হিসেবে দেখেন। তাদের মতে, খ্রিস্টানরা ইহুদিদের ফিরে আসা চায় কেবল তাদের খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার উদ্দেশ্যে। অন্যদিকে ক্যাথলিক, অর্থোডক্স এবং অন্যান্য মূলধারার খ্রিস্টান চার্চগুলো এই মতাদর্শকে প্রত্যাখ্যান করেছে। জেরুজালেমের গির্জা প্রধানরা সম্প্রতি এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ক্রিশ্চিয়ান জায়নিজম একটি ‘ক্ষতিকর মতাদর্শ’ যা শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে।

/কহু


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: