নিয়ন্ত্রণহীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশ

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এলাকায় বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ নিয়ে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। কোনও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা প্রশাসনিক

2026-05-17T12:55:30+00:00
2026-05-17T12:55:30+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
নিয়ন্ত্রণহীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম 
সিলেটে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ নিয়ে চরম অব্যবস্থাপনা। ছবি : সময়ের আলো
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এলাকায় বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ নিয়ে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। কোনও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা প্রশাসনিক তদারকি না থাকায়, ব্যক্তি উদ্যোগ ও স্থানীয় ক্লাবগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত বর্জ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া এখন নগরবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন ময়লা সংগ্রহ না করা এবং রসিদ ছাড়াই ইচ্ছামতো ফি আদায়ের অভিযোগে ক্ষুব্ধ সিলেটের সাধারণ মানুষ। আর সিলেট সিটি করপোরেশনের আইনে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের বিধান না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাসে কোটি টাকার ব্যাবসা করছে বিভিন্ন সংগঠন। আর এ প্রক্রিয়ার লাগাম টানতে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য প্রায় ৬০০টি ভ্যানগাড়ি কাজ করছে। এসব ভ্যান মূলত স্থানীয় বিভিন্ন ক্লাব বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। সিসিকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসিক ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই টাকা আদায়ের বিপরীতে কোনও বৈধ রসিদ দেওয়া হয় না।


নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন ময়লা নেওয়ার কথা থাকলেও অনেক এলাকায় দুই-তিন দিন, এমনকি চার দিন পর পর ভ্যান আসে। ফলে বাসাবাড়িতে ময়লা জমে তীব্র দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। হিসাব অনুযায়ী, এই বিশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় বর্জ্য অপসারণের জন্য নগরবাসীকে মাসে প্রায় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা গুণতে হচ্ছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, বর্জ্য সংগ্রহকারীরা কোনও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না। অনেক সময় ড্রেনের পাশে বা রাস্তার মোড়ে ময়লা স্তূপ করে রাখা হয়, যা সিসিকের বড় ট্রাকগুলো এসে নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এলাকার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। 

৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের হেলেনা বেগম বলেন, ‘আমাদের বাসা মূল সড়কের কাছাকাছি হওয়ার পরও দুদিন পর পর বর্জ্য নেয়। যাদের বাসা গলির একটু ভেতরে, তাদের অবস্থা আরও খারাপ।’

সিলেটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই বেহাল দশা সম্পর্কে সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) একলিম আবেদীন জানান, নগর পরিষ্কার রাখতে বর্তমানে বিভিন্ন ক্লাব ও ব্যক্তি উদ্যোগে ভ্যানগাড়ি দিয়ে ময়লা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংগৃহীত বর্জ্য তারা সিটি করপোরেশনের নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে ফেলে।

তিনি আরও জানান, ক্লাবগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে শীঘ্রই কমিটি করে দেওয়া হচ্ছে। 

এদিকে সচেতন মহলের মতে, রাজধানীর মতো সিলেটেও বর্জ্য সংগ্রহের ফি সুনির্দিষ্ট করা এবং রসিদ ছাড়া টাকা আদায় বন্ধে সিসিককে কঠোর হতে হবে। 

/মহু


  বিষয়:   সিলেট  বর্জ্য  কমিটি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: