টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় একটি বুট (মিষ্টির প্যাকেট) তৈরির মিলে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দলটি মিলের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে শ্রমিকদের মারধর, হাত-পা বেঁধে এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার নিয়ে গেছে। ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত আড়াইটার কালিহাতী পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আব্দুল সাত্তারের পরিত্যক্ত রাইস মিলে (বর্তমানে ভাড়া নেওয়া বুট মিল) এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— মিল মালিক জাহাঙ্গীর (৫২), তার ছেলে মোঃ আব্দুস সালাম (১৫), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকার সাইফুল (৬৫), মুক্তাগাছার রায়হান (৩২) এবং দিনাজপুরের বীরগঞ্জের এমদাদ (৪৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোলা জেলার দুলারহাট থানার ভয়ংকর পাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর (৫২) মিলটি ভাড়া নিয়ে মিষ্টির প্যাকেট তৈরির কারখানা হিসেবে পরিচালনা করে আসছিলেন। ঘটনার রাতে আনুমানিক ৬ থেকে ৭ জনের একদল ডাকাত একটি হাইস গাড়িযোগে কারখানায় আসে। পরে তারা দেশীয় অস্ত্রের সাহায্যে মিলের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে।
ভেতরে থাকা শ্রমিকরা টের পেলে ডাকাত দল তাদের বেধড়ক মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে এক শ্রমিককে পানির সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করা হয়। ডাকাতরা কারখানা থেকে একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সমিটার খুলে নিয়ে চম্পট দেয়।
খবর পেয়ে কালিহাতী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহত শ্রমিকদের কাছ থেকে ডাকাত দলের ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কালিহাতী থানার ওসি মো. কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা, ব্যবহৃত যানবাহন ও অস্ত্র উদ্ধার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/এনএন