প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আরও গভীর করতে আগ্রহী এবং মরক্কোর সঙ্গে অংশীদারিত্বকে সহযোগিতা, সমৃদ্ধি ও কৌশলগত সুযোগের নতুন দিগন্তে উন্নীত করতে চায়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাবাতে মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আফ্রিকা সহযোগিতা ও প্রবাসী মন্ত্রী নাসের বুরিতার সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাবাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আফ্রিকা সহযোগিতা ও প্রবাসী মন্ত্রী নাসের বুরিতার সঙ্গে বৈঠকে দুই নেতা রাজনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের ঐতিহাসিক মরক্কো সফরের কথা স্মরণ করেন।
বৈঠকে দুই নেতা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিক, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, কৃষি, শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, জাহাজ নির্মাণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ-মরক্কো সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তারা ঢাকায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরবর্তী পররাষ্ট্র বিষয়ক পরামর্শ বৈঠক (এফওসি) আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হন, যাতে চলমান সহযোগিতা মূল্যায়ন এবং নতুন সম্ভাবনা অন্বেষণ করা যায়। প্রতিমন্ত্রী মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
একই দিন বিকেলে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মরক্কোর শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী রিয়াদ মেজুরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বাংলাদেশের উন্নত বিনিয়োগ পরিবেশ তুলে ধরে তিনি বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময়ের প্রস্তাব করেন। জবাবে মরক্কোর শিল্পমন্ত্রী ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
কৃষি খাতে বিদ্যমান অংশীদারিত্বের প্রশংসা করে রাষ্ট্রমন্ত্রী ফসফেট রফতানির আরও নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর সরবরাহ চেইন নিশ্চিত করতে জি-২-জি সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানান, যা বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখবে।
তিনি মরক্কোর বাজারে পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্য প্রচারে মরক্কোর সঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। দুই নেতা উদ্ভাবন, শিল্প প্রশিক্ষণ, আইসিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় গভীর সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের সম্ভাবনাও আলোচনা করেন।
একই দিনে প্রতিমন্ত্রী মরক্কোর অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা মন্ত্রী ইউনেস সেক্কুরির সঙ্গে তার অফিসে বৈঠক করেন। বৈঠকে রাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন সরকারের সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ, ‘পারিবারিক কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ প্রোগ্রামসহ খাল পুনঃখনন প্রকল্পের মতো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন।
দুই নেতা কর্মসংস্থান সৃজন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী ও যুবক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের প্রসারে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ অন্বেষণ করেন। তারা জ্ঞান বিনিময়, কারিগরি বিনিময় ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর জোর দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক আব্দুর রউফ মন্ডল উপস্থিত ছিলেন।
/কেএইচও