সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মুখোমুখি করতে চায় সরকার। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতকে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার গুঞ্জন এবং তার আইনি অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থেই তাকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আইনি উপায়ে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকার দেশের আইনানুগ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
একই ব্রিফিংয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’ (সিএএ) কার্যকর করা এবং পুশব্যাক নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়। ভারতের ‘সিএএ’ বা আসামের ‘এনআরসি’ তাদের নিজস্ব নাগরিকদের জন্য তৈরি আইন, তাই এই বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো মন্তব্য করার অবকাশ বা প্রয়োজন নেই।
তবে ভারতের এই অভ্যন্তরীণ আইনের কারণে সীমান্তে যাতে কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা জোরপূর্বক পুশব্যাকের চেষ্টা সফলভাবে ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
সময়ের আলো/টিএইচ