বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সোহেলী তামান্না হত্যাচেষ্টা মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিনকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার (২৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এই নির্দেশ দেন।
এদিন গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের ওপর শুনানির জন্য খাদিজাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মো. আমিনুর রহমান গত ১৫ মে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে খাদিজা ইয়াসমিনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য এদিন নির্ধারণ করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুজ্জোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ বলে আখ্যায়িত করলে শিক্ষার্থীরা দেশব্যাপী শান্তিশান্তিপূর্ণ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন। আন্দোলন প্রতিহত করতে এ মামলার আসামিসহ এজাহারভুক্ত আসামিরা মরিয়া হয়ে ওঠেন এবং দলীয় নেতা কর্মী, পুলিশ, বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন।
বাদী সোহেলী তামান্না কোটা আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি নৈতিক সমর্থন জানিয়ে মিছিলে অংশ নেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে ভাটারা থানার বাড্ডা এলাকায় অবস্থানকালে ২০০ থেকে ৩০০ জন আওয়ামী সন্ত্রাসী লাঠি, লোহার রড, হকিস্টিক ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এ সময় আসামিদের ছোড়া গুলিতে বাদীর বাম হাতের কবজিতে গুরুতর আঘাত লাগে। এ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি পিঠের পেছনে বিদ্ধ হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ ঘটনায় বাদীর বাম হাতের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ভুক্তভোগী সোহেলী তামান্না এ ঘটনায় বাদী হয়ে ভাটারা থানায় মামলা করেন।
/মহু