চাহিদা বেশি মাঝারি-ছোট গরুর

সমীরণ রায়

জাতীয়

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে ২৭টি পশুর হাট জমে উঠেছে। বেড়েছে ক্রেতাদের উপস্থিতিও। আজ সোমবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু

2026-05-25T05:13:45+00:00
2026-05-25T05:13:45+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
চাহিদা বেশি মাঝারি-ছোট গরুর
সমীরণ রায়
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:১৩ এএম 
গরুর হাট। ছবি : সময়ের আলো
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে ২৭টি পশুর হাট জমে উঠেছে। বেড়েছে ক্রেতাদের উপস্থিতিও। আজ সোমবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হবে। ফলে আজ থেকে বিক্রি বাড়তে পারে। 

তবে হাটজুড়ে যত মানুষের ভিড় ততটা কেনাবেচা বাড়েনি। বেশিরভাগ ক্রেতাই বাজার যাচাই, দামের তুলনা ও পশু দেখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বড় আকারের গরু ও ব্যতিক্রমী পশু ঘিরে কৌতূহল থাকলেও কেনায় আগ্রহ তুলনামূলক কম। 

আর মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর দিকেই ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি। তবে বড় গরুগুলো ঘিরেও আগ্রহের কমতি নেই। রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা সারি সারি গরু, মহিষ ও ছাগল নিয়ে বসেছেন। হাটের বিভিন্ন অংশে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকলেও প্রকৃত ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। অনেকেই গরুর ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন। আবার কেউ কেউ দরদাম করছেন। দরদামে মিলে গেলে কিনেও নিয়ে যাচ্ছেন। হাটগুলোতে গরু, মহিষ, উট, ছাগল ও দুম্বা উঠেছে। 

তবে গরুর চেয়ে অনেকেরই মহিষের দিকে ঝোঁক বেশি দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা ২০০-৩০০ কেজি ওজনের পশুর। বিশেষ করে ১ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে থাকা গরুগুলোর সামনে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। রাজধানীর অন্যতম পশুর হাট গাবতলী, আফতাবনগর, কমলাপুর বালুর মাঠ, শাহজাহানপুর, উত্তরা দিয়াবাড়ী, মাতুয়াইল, দয়াগঞ্জ, জুরাইন, বনশ্রী, গোলাপবাগ, মিরপুর সেকশন-৬ (ইস্টার্ন হাউজিং), মিরপুর কালশী, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, মোহাম্মদপুরের বছিলা ও মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠের হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে।

ব্যবসায়ী ও খামারিরা বলছেন, হাটে ক্রেতারা আসছেন। তারা দরদাম করছেন। কিন্তু বিক্রির সংখ্যা কম। আশা করি সোমবার (আজ) থেকে কেনাবেচা বাড়বে। বিশেষ করে ১ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে থাকা গরুগুলোর সামনে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। এ দামের গরু তুলনামূলকভাবে বেশি বিক্রি হচ্ছে। 

তবে যে দামে গরু কিনেছি বা একটা গরু লালন-পালনে যে খরচ হয়েছে, সেই তুলনায় দাম খুব কম বলছে। এবার গরুর দাম একটু বেশি। দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকায় মাঝারি গরু বিক্রি হচ্ছে বেশি। বড় গরু দেখতে মানুষ ভিড় করলেও উচ্চ দামের কারণে বিক্রি কম হচ্ছে। 

ফলে পুরো হাটে এখন মাঝারি গরুর দিকেই ক্রেতাদের ঝোঁক দেখা যায়। তবে সেসব ক্রেতার সঙ্গে দরদামে মিললে গরুর বিক্রি হচ্ছে। এখনও নিরাশ নই। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাড়বে ক্রেতার চাপ এবং জমে উঠবে পশুর হাট। তবে তীব্র গরম, রোদ ও বৃষ্টিতে হাটের পশুগুলোর খুব কষ্ট হচ্ছে।

রাজধানীর কমলাপুর বালুর মাঠ ঈদের কুরবানির পশুর হাটে এবার দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে একটি গোলাপি রঙের মহিষ। উত্তর কোরিয়ার নেতা ‘কিম জন উন’ এর সঙ্গে মিল রেখে মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘কিম জং উন’। 

নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে আনা এই মহিষ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। প্রায় সাড়ে ৯ মণ ওজনের মহিষটির মালিক সোহান। খুব যত্নে তিনি মহিষটিকে লালন-পালন করেছেন। নিয়মিত গোসল করানো থেকে শুরু করে খাওয়ানো সবকিছুই নিজ হাতে করেছেন। মহিষটিকে কোনো ধরনের মেডিসিন খাওয়ানো হয়নি। খড়কুটো, কাঁচা ঘাস, ধানের তুষ, ভাঙা ভুট্টা ও গমের ভুষিই ছিল এর প্রধান খাবার।

দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে সোহান বলেন, মহিষটি থেকে প্রায় সাড়ে ৯ মণ মাংস পাওয়া যাবে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এর দাম পাঁচ লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে সাড়ে চার লাখ টাকা পেলেও তিনি বিক্রি করে দেবেন বলে জানান।

প্রতিদিন অনেক মানুষ মহিষটি দেখতে আসছেন, দামও জানতে চান। তবে আমি যে দাম বলছি, সেই দামেই বিক্রি হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। ক্রেতা-বিক্রেতার দরদামের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত বিক্রি করা হবে।

কমলাপুর বালুর মাঠে সারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও বড় বড় গরু ও মহিষ আনা হয়েছে। এসব পশুর দাম ৩ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকার মধ্যে হাঁকা হচ্ছে। যদিও ছোট, মাঝারি ও বড় সব ধরনের গরুই দেখা গেছে।

এরই মধ্যে ব্রাদার্স ক্লাব সংলগ্ন কমলাপুর বালুর মাঠ, উটের খামার এলাকা, কালভার্ট রোড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনের অংশজুড়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আনা পশুতে হাট ভরে উঠেছে। তবে কেনাবেচা কিছুটা জমে উঠেছে।

সিরাজগঞ্জ থেকে এসেছেন জালাল ব্যাপারি। গত শনিবার রাতে ২২টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন তিনি। তিনি বলেন, অনেকেই দেখছেন, দরদামও করছেন। মাত্র তিনটি গরু বিক্রি করেছি। আশা করছি সোমবার থেকে যেহেতু সরকারি ছুটি হবে। তাই কেনাবেচা বাড়বে।

শাহজাহানপুর হাটে চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা ইদ্রিস ব্যাপারি বলেন, এখন ক্রেতারা মূলত বাজার ঘুরে দেখছেন ও দাম যাচাই করছেন। কেনাবেচা কিছুটা বেড়েছে। আশা করি ঈদের দুয়েক দিন আগে থেকে পুরোদমে বাজার জমে উঠবে। ঢাকায় অনেকের গরু রাখার জায়গা না থাকায় তারা শেষ মুহূর্তে এসে পশু কেনেন। বড় একটি অংশ ঈদের আগের রাতেও গরু কিনে থাকেন।

কুষ্টিয়া থেকে প্রায় ২৫ মণ ওজনের একটি গরু নিয়ে এসেছেন রেজাউল ইসলাম। গরুটির দাম হাঁকছেন ১২ লাখ টাকা। তিনি বলেন, অনেকেই গরু দেখতে আসেন, দাম জিজ্ঞেস করেন। কিন্তু কিনতে আগ্রহী ক্রেতা খুব কম। এর খাবার ও পরিচর্যায় অনেক খরচ হয়েছে। ভালো দাম না পেলে বিক্রি করব না।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আনিসুল হক চার মণ ওজনের একটি গরু কিনেছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, অনেক গরু দেখেছি। বিক্রেতারা দাম একটু বেশি চাইছেন। অনেক দরদামের পর এই গরুটি কিনলাম।

লক্ষ্মীপুর থেকে ২৫টি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম। তার গরুগুলোর দাম সাড়ে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে। তিনি বলেন, হাট এখনও পুরোপুরি না জমলেও ক্রেতাদের আনাগোনা রয়েছে। অনেকেই এসে গরু দেখছেন, দরদাম করছেন, কিন্তু বেশিরভাগই এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। সোমবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু, বিক্রিও এদিন থেকে বাড়বে বলে মনে করি।

গাবতলীর আরেক আকর্ষণ ফরহাদ ব্যবসায়ীর আনা জাফরাবাদী জাতের একটি মহিষ। প্রায় ১৩০০ কেজি ওজনের এই মহিষটির দাম হাঁকা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা। বিশাল আকৃতির মহিষটি দেখতে ভিড় করছেন অনেকে। তবে দাম শুনে অনেকেই পিছিয়ে যান বলে জানান বিক্রেতা।

/এসএকে


  বিষয়:   চাহিদা  মাঝারি  ছোট  গরু  কোরবানি  হাট 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: