বাংলাদেশ বেতারে কর্মরত সংবাদ উপস্থাপকদের জন্য জারি করা বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘ড্রেস কোড’ বা পোশাকবিধি সংক্রান্ত নির্দেশনাটি অবশেষে বাতিল করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর নতুন একটি জরুরি অফিস আদেশের মাধ্যমে আগের সেই বিতর্কিত নির্দেশনাটি প্রত্যাহার করে নেয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এএসএম জাহীদের সই করা এক নতুন আদেশে জানানো হয়, সংবাদ উপস্থাপকদের পোশাক-পরিচ্ছদ সংক্রান্ত পূর্বের নির্দেশনাটি আর কার্যকর থাকবে না।
এর আগে গত ৪ মে বেতারের কেন্দ্রীয় বার্তা সংস্থার পরিচালক (বার্তা) তানিয়া নাজনীন স্বাক্ষরিত এক বিশেষ নির্দেশনায় সংবাদ উপস্থাপকদের জন্য সুনির্দিষ্ট পোশাকবিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। বেতারের ফেসবুক লাইভে নিয়মিত সংবাদ বুলেটিন প্রচারের বিষয়টি উল্লেখ করে সেখানে নারী ও পুরুষ উপস্থাপকদের জন্য আলাদা আলাদা পোশাকের কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সেই আদেশে নারী সংবাদ উপস্থাপকদের বাধ্যতামূলকভাবে শাড়ি অথবা ওড়নাসহ সালোয়ার-কামিজ পরতে বলা হয়েছিল। একই সাথে নারীদের বড় আকারের টিপ ব্যবহার না করার এবং একপাশে ওড়না না ঝোলানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
অন্যদিকে পুরুষ সংবাদ উপস্থাপকদের জন্য ফুলহাতা শার্ট ও টাই পরিধান করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, তবে বিশেষ দিবস ও উৎসব-পার্বণে পাঞ্জাবি পরার সুযোগ রাখা হয়েছিল। এছাড়া পুরুষদের জন্য ক্যাজুয়াল টি-শার্ট ও গেঞ্জি পরিধান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
সম্প্রতি ওই পুরনো নির্দেশনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকে এটিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ হিসেবে আখ্যা দেন। বিশেষ করে নারী উপস্থাপকদের পোশাক ও সাজসজ্জা নিয়ে এমন আলাদা বিধিমালা তৈরি করাকে লিঙ্গবৈষম্যমূলক বলেও কঠোর মন্তব্য করেন সমালোচকেরা।
সমালোচক ও গণমাধ্যমকর্মীদের মতে, সংবাদ উপস্থাপনায় মূল গুরুত্ব পাওয়া উচিত একজন কর্মীর পেশাদারিত্ব, শুদ্ধ ভাষা এবং উপস্থাপনার দক্ষতার ওপর; তাদের ব্যক্তিগত পোশাকের ধরনের ওপর নয়। এমন তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষ তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে সেই বহুল আলোচিত ‘ড্রেস কোড’ সম্পূর্ণ বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
সময়ের আলো/টিএইচ