জাতীয় নাগরিক পার্টির ‘এনসিপি’র সঙ্গে জোট করার জন্য দলটির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পা ধরতে বাকি রেখেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি ও সাবেক গণঅধিকার পরিষদ নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, এনসিপি, এবি পার্টি এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জোট গঠনের জন্য এমন আচরণ করেছিলেন। অথচ এই রাজনৈতিক ব্যক্তি তাকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নানা আপত্তিকর কথা বলেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অতীতে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অসংখ্য নেতিবাচক কথা বললেও পরবর্তীতে তাদের কাছেই ১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছেন। তিনি আগে থেকেই জানতেন যে আদর্শচ্যুত এই নেতা জামায়াতের কাছে বিক্রি হবেন এবং সেই কারণেই তিনি তাদের পাতানো ফাঁদে পা দেননি।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, গণঅধিকার পরিষদ ২০২২ সাল থেকে বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিল। তিনি এমন কোনো দলে যাননি যা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ হতে পারে। তিনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদী আখ্যা দিয়ে বলেন, এই নেতা অতীতে শিবির, বাম ও এবি পার্টি করেছেন এবং এখন এনসিপি করছেন।
পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ব্যক্তিগত জীবন ও অভ্যাস নিয়ে তীব্র আক্রমণ করে রাশেদ খাঁন বলেন, তার আশপাশের লোকজনই তাকে জানিয়েছে যে এই নেতা বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করেন, যার প্রমাণ তার চোখমুখে স্পষ্ট। মতিঝিলের অফিস বন্ধ করে নতুন কার্যালয় রূপায়ণ টাওয়ারে স্থানান্তরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখন থেকে তাকে রূপায়নেই বসে থাকতে হবে।
নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্ত হয়ে বাইরে গিয়ে আবোলতাবোল বললে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে। গালিগালাজ ও বেয়াদবি করা যদি কারও স্বাধীনতা হয়, তবে তার প্রতিবাদে ডিম ছুড়ে মারাও সংক্ষুব্ধ জনতার স্বাধীনতা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সময়ের আলো/টিএইচ