৮০০ কোটি ইউরো পাচার: সাইপ্রাসে এস আলমের বাড়ি ক্রোক

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮০০ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্তে নেমে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র সাইপ্রাসে এস আলম গ্রুপের

2026-05-28T20:34:01+00:00
2026-05-28T20:40:48+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
৮০০ কোটি ইউরো পাচার: সাইপ্রাসে এস আলমের বাড়ি ক্রোক
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম  আপডেট: ২৮.০৫.২০২৬ ৮:৪০ পিএম
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮০০ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্তে নেমে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র সাইপ্রাসে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল দোতলা বাড়ি ক্রোক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। 

বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাইপ্রাসের নিকোসিয়া জেলা আদালত লিমাসসোল জেলার পারেকলিসিয়ায় অবস্থিত এস আলমের এই সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেয় বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সাইপ্রাস মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান আন্তর্জাতিক ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের আইনি সহায়তার অনুরোধে এই ক্রোক আদেশ জারি করা হয়েছে। সাইপ্রাসের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিটের ‘মোকাস’ আবেদনের পর গত ১৯ মে এই সম্পত্তি ক্রোকের আনুষ্ঠানিক আদেশ আসে।

বাংলাদেশের অন্যতম বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের প্রধান সাইফুল আলম ২০১৬ সালে ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট স্কিম’ বা বিশেষ বিনিয়োগ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব লাভ করেছিলেন। তবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গুরুতর সব অভিযোগ পাওয়ার পর সম্প্রতি সাইপ্রাস সরকার তার সেই নাগরিকত্ব বাতিল করে দেয়। বাংলাদেশের তদন্তকারীদের জমা দেওয়া নথি অনুসারে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কোম্পানিগুলোর একটি বিশেষ নেটওয়ার্ক পরিচালনা, প্রতারণামূলক ঋণ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপ দেশ থেকে ৮০০ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করেছে, যার একটি বড় অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে থাকতে পারে। তদন্তকারীরা সাইপ্রাসে নিবন্ধিত ‘একলেয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি কোম্পানিসহ সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস এবং জার্সিতে থাকা কোম্পানি ও ট্রাস্টের একটি গোপন নেটওয়ার্কের আর্থিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন। এর আগে গত ২১ মে ইসলামী ব্যাংক থেকে নেওয়া ৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ না করায় চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত এস আলমসহ ১১ জনকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেয় এবং আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়।

অবশ্য সাইফুল আলম তার বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের অন্যায় বা অপরাধের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ল ফার্ম ‘কুইন ইমানুয়েল’ এর প্রতিনিধির মাধ্যমে দাবি করেছেন যে, তার সব বিনিয়োগ বৈধ বিদেশি উৎসের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিজের সম্পদ রক্ষার লড়াইয়ে তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিএসআইডি)’ এর মাধ্যমেও একটি আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, যেখানে তিনি এই ক্রোক আদেশকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন।

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: