পবিত্র ঈদুল আজহা পরবর্তী সময়ে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কতটা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তা নিজে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকাল ৪টার দিকে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘রাজধানীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া ঠিকঠাক ও ভালোভাবে হচ্ছে কিনা, তা দেখতেই মূলত প্রধানমন্ত্রী আজ রাস্তায় বেরিয়েছেন। তিনি নিজেই নিজের গাড়ি ড্রাইভ করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করছেন।’ সড়ক পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী ট্রাফিক আইন ও সিগন্যাল মেনে স্বাভাবিক নিয়মে গাড়ি থামিয়েছেন বলেও উপ প্রেস সচিব উল্লেখ করেন।
সড়ক পরিক্রমার বিবরণ দিয়ে উপ প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িটি প্রথমে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসভবন থেকে বের হয়ে গুলশান-১ নম্বর মোড় অতিক্রম করে। এরপর একে একে হাতিরঝিল, রামপুরা রোড, মালিবাগের আবুল হোটেল, তালতলা মার্কেট হয়ে বাসাবোর দিকে এগিয়ে যায়।
পরবর্তী সময়ে কমলাপুর স্টেডিয়াম, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, যাত্রাবাড়ী মোড়, ধোলাইখাল হয়ে শহীদ ফারুক সড়ক, দয়াগঞ্জ সড়ক ও নারিন্দা হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড়ে পৌঁছায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি। সেখান থেকে আদালত সড়ক, নয়া বাজার ও বংশাল রোড হয়ে গুলিস্তান, শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের সড়ক দিয়ে নিউ মার্কেট এলাকায় যান তিনি। সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে ডান দিকে মোড় নিয়ে কলাবাগান, মিরপুর রোড, সিটি কলেজের সামনে দিয়ে সীমান্ত স্কয়ার ও জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড হয়ে ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোড ধরে ২৭ নম্বর সড়কে প্রবেশ করেন। এরপর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে পান্থপথ, ফার্মগেট ও বিজয় সরণি দিয়ে মহাখালী সড়কের সার্বিক পরিস্থিতিও প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ করার কথা রয়েছে।
সরকারি হিসাব ও ধারণা অনুযায়ী, চলতি বছর রাজধানী ঢাকায় প্রায় সাত লাখ পশু কোরবানি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে আনুমানিক ৫৫ হাজার টনেরও বেশি পশুবর্জ্য তৈরি হয়েছে। উৎসবের এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণ করে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে গত দুদিন ধরে একযোগে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটি করপোরেশন।
সময়ের আলো/টিএইচ