আগস্টে দেশে রাজনৈতিক ও মব সহিংসতায় অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৫৯৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতার ৭০ ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৫৩৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ৫৩টি গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৬২ জন। এছাড়া ১২ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) আগস্টের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে রাজনৈতিক সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুলাইয়ে ৪৫টি ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ১৬৪ জন আহত হলেও আগস্টে ঘটনা বেড়ে ৭০টিতে দাঁড়িয়েছে।
আগস্টে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ২০টি ঘটনায় ৫ জন নিহত ও অন্তত ১৫২ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ১৮টি সংঘর্ষে নিহত ১ ও আহত ২৩৩ জন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের ৭টি সংঘর্ষে নিহত ১ ও আহত ২৬ জন। বিএনপি-এনসিপির ৬টি ঘটনায় আহত ১৬ জন এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের ১০টি ঘটনায় আহত ৩৮ জন। বিভিন্ন দলের আরও ৯টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭১ জন। নিহত ৭ জনের মধ্যে বিএনপির ৫, আওয়ামী লীগের ১ এবং জামায়াতের ১ জন।
ছাত্রসংগঠনগুলোর অন্তত ১৩টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২১৬ জন। এর মধ্যে ছাত্রদল-শিবিরের ৮টি ঘটনায় আহত ১৮১ জন এবং ছাত্রদল, অন্যান্য ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ৫টি ঘটনায় আহত ৩৫ জন।
রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর দুষ্কৃতকারীদের হামলার ৪ ঘটনায় ২ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার, দখলদারিত্ব, রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ১৯টি ঘটনায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরায় নির্বাচনী বিরোধে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন।
আগস্টে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ৬২টির বেশি মামলা হয়েছে। এতে ১ হাজার ১২৫ জনের নাম উল্লেখ এবং প্রায় ২ হাজার ২০৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও অন্যান্য ঘটনায় মোট ১৬২টি ঘটনায় ১২ হাজার ৮২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মব সহিংসতার ৫৩ ঘটনায় নিহত ২৮ ও আহত ৬২ জন। সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৪৫ জন। সভা-সমাবেশে বাধার ১৩ ঘটনায় আহত ৬১ ও আটক ৮ জন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ৮ ঘটনায় ১০ জন আটক ও ৮টি মামলা হয়েছে।
আগস্টে কারাগারে মারা গেছেন ৬ জন। নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে ৮২টি ঘটনায় ৮৭টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। সীমান্তে বিএসএফের ৮ ঘটনায় নিহত ২ ও আহত ১ জন। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে নিহত ১ ও আহত ১ জন।
শ্রমিক নির্যাতনের ৮৪ ঘটনায় নিহত ১৯ ও আহত ৬৭ জন। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন আরও ৬৩ শ্রমিক। নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৪৯ জন, যার মধ্যে ধর্ষণের শিকার ৭৯ জন। এছাড়া ২৮২ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে; মারা গেছে ৭৭ জন।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, আগস্টে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি একটি সংবেদনশীল ও পরিবর্তনশীল পর্যায়ের মধ্য দিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, জাতীয় সংসদকে ঘিরে বিতর্ক এবং জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সামগ্রিক পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, মাসজুড়ে রাজনৈতিক ও ক্যাম্পাস সহিংসতা, গণপিটুনি ও মব সহিংসতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্তে সহিংসতা এবং শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে ঘটেছে।