এবারও চামড়ায় ধরাশায়ী মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

কোরবানির ঈদ এলেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জমে ওঠে চামড়ার মৌসুমি বাণিজ্য। ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান কিছু

2026-05-30T14:41:50+00:00
2026-05-30T14:41:50+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
এবারও চামড়ায় ধরাশায়ী মৌসুমি ব্যবসায়ীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ২:৪১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
কোরবানির ঈদ এলেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জমে ওঠে চামড়ার মৌসুমি বাণিজ্য। ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান কিছু অতিরিক্ত আয়ের আশায় পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন। কিন্তু এবারের মৌসুমেও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং সংগ্রহমূল্যই তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক ব্যবসায়ী।

দেশের অন্যতম বড় চামড়া বাণিজ্যকেন্দ্র নাটোরের চকবৈদ্যনাথ মোকামে কোরবানির পশুর চামড়া আসতে শুরু করলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে আনা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিক্রির সময় এমন দাম প্রস্তাব করা হচ্ছে যা তাদের বিনিয়োগের তুলনায় অনেক কম।

মোকাম ঘুরে দেখা গেছে, ছাগলের চামড়া অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। গরুর চামড়ার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী চামড়া বিক্রি না করে আড়তেই রেখে ফিরে যাচ্ছেন, আশায় আছেন দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশপাশের জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোরবানির আগে বাজার সম্পর্কে যেসব ধারণা দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কেউ কেউ বলছেন, পরিবহন খরচ ও সংগ্রহ ব্যয় যোগ করলে বর্তমান বাজারদরে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন।

শুধু ব্যক্তি ব্যবসায়ী নন, মাদ্রাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরাও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সারা বছর চামড়ার বাজারে যে মূল্য থাকে, কোরবানির মৌসুমে তার বিপরীত চিত্র দেখা যায়। ফলে প্রত্যাশিত অর্থ সংগ্রহের সুযোগ কমে যায়।
আরও পড়ুন

তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি মানতে নারাজ আড়তদাররা। তাদের দাবি, বাজারে ভালো মানের চামড়ার দাম এখনও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে রোগাক্রান্ত পশুর চামড়া, কাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত চামড়া এবং যথাযথভাবে লবণ সংরক্ষণ না করা চামড়া মোকামে আসছে। এসব চামড়ার গুণগত মান কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই দাম কমে যাচ্ছে।

চামড়া ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষ করে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত পশুর চামড়া নিয়ে এবারও বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এছাড়া সময়মতো লবণ ব্যবহার না করায় অনেক চামড়া দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। ফলে আড়তদাররা সেসব চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, চামড়া সংগ্রহের সময় মান যাচাইয়ে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, শুধু বেশি পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ করলেই হবে না; বাজারে বিক্রিযোগ্য মান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে চলতি মৌসুমে নাটোর অঞ্চলে প্রায় ১২ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী বছর চামড়া সংগ্রহ ব্যবস্থায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এএডি/


  বিষয়:   চামড়া  ধরাশায়ী  মৌসুমি  ব্যবসায়ী 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: