প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১২:১৫ এএম আপডেট: ৩০.০৫.২০২৬ ১২:২০ এএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। সংগৃহীত ছবিবাংলার হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোও মুসলিম বাঙালির ঐতিহাসিক ও নৈতিক দায়িত্বের অংশ বলে মত দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।
শুক্রবার (২৯ মে) সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। ওই পোস্টে পাটোয়ারী বাংলাভাষা, তার সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক দিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করেন।
পাটোয়ারী লেখেন, ‘ভাষার আলাপ উঠলেই অনেকের গায়ে এমনভাবে লাগে, যেন গরম তাওয়ায় ইলিশ পোড়ার শব্দ উঠছে। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে বাংলা এক অনন্য জাতিসত্তা, যারা একইসাথে ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয়ের লড়াই করেছে। আর এই বাংলার অধিকাংশ মানুষ মুসলমান।’
তিনি লেখেন, ‘মুসলিম বাঙালি বহু আগ থেকেই স্বাধীন সত্তার স্বপ্ন দেখেছে। ইতিহাসের বহু ঘাত-প্রতিঘাত, আরব-ইরান-তুরানের সাম্রাজ্যিক উত্থান-পতনের মধ্যেও মুসলিম বাঙালি তার নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মমর্যাদা নিয়ে টিকে থেকেছে। এটাই বাংলার শক্তি।’
এরপর তিনি লেখেন, ‘বাংলার হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোও মুসলিম বাঙালির ঐতিহাসিক ও নৈতিক দায়িত্বের অংশ। কারণ বাংলা শুধু একটি ধর্মীয় পরিচয়ের ভূখণ্ড নয়; এটি একটি সভ্যতা, একটি ভাষাভিত্তিক ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ নিজেও বিভিন্ন সময়ে উপমহাদেশের মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও বহুত্বের প্রশ্নে জটিল বাস্তবতার কথা বলেছেন। তাই ইতিহাসকে খণ্ডিতভাবে দেখিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা বিপজ্জনক।’
পোস্টের বাকি অংশে পাটোয়ারী বলেন, ‘ইতিহাস মানে শুধু স্লোগান নয়, ইতিহাস মানে ধারাবাহিকতা, আত্মপরিচয় ও বাস্তবতা। একদিকে সামান্য সালাফিবাদ, অন্যদিকে একটু জিন্নাহ, সাথে কিছু কাওয়ালি মিশিয়ে নতুন “মুসলিম বাঙালি” পরিচয় দাঁড় করানোর চেষ্টা অনেক সময় কৃত্রিম ও প্রশ্নবিদ্ধ মনে হয়। নিজের মাটি, ভাষা, ইতিহাস ও জনগণের শক্তির উপর বিশ্বাস রাখাই সবচেয়ে জরুরি।’
বিশ্বনেতাদের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, আনোয়ার ইব্রাহিম কিংবা মাও সে তুং—কেউ এসে আমাদের লড়াই লড়ে দেবে না। আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের সমাজ, আমাদের রাষ্ট্র, আমাদেরকেই গড়তে হবে। প্রয়োজনে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া যায়, কিন্তু জনগণকে ভুল ইতিহাসের অন্ধকার গর্তে ঠেলে দেওয়া যায় না। কারণ ইতিহাসের পাতায় জাতির উত্থান-পতনের শিক্ষা লেখা আছে।
হতাশ কেন বন্ধু?
আবার শপথ নাও—
নিজের ভাষা, নিজের মানুষ, নিজের ইতিহাস আর নিজের মাটির পক্ষে দাঁড়ানোর শপথ।’
জেডও/