সদ্য প্রয়াত প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজার নামাজ শেষে হঠাৎ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির লেক সার্কাস এলাকার মাসজিদ-উত-তাকওয়ার ‘তাকওয়া মসজিদ’ সামনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। দেশের এই শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার জানাজাকে কেন্দ্র করে সেখানে আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাগরিবের নামাজের পর তাকওয়া মসজিদে তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। তবে জানাজা শেষ হওয়ার পরপরই সেখানে উপস্থিত প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আচমকা জড়ো হয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করলে উপস্থিত সাধারণ মুসল্লি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যেকোনো ধরনের বড় সংঘাত এড়াতে পুলিশ স্লোগানদাতাদের ধাওয়া করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই বেশ কয়েকজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তোলে। তবে আটক হওয়া ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী নন এবং কেবল একজন জাতীয় নেতার জানাজার নামাজে শরিক হতে এসেছিলেন।
ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জিসানুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, আটককৃত ব্যক্তিরা ধর্মীয় ও শোকাবহ একটি পরিবেশের মধ্যে হঠাৎ উসকানিমূলক রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে শান্তিভঙ্গ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা স্পষ্ট করেন, যাদের আটক করা হয়েছে তারা সবাই সক্রিয়ভাবে স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তাদের আটক করে থানায় নেওয়া হচ্ছে। সেখানে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও উদ্দেশ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য তোফায়েল আহমেদ।
ধানমন্ডির এই প্রথম জানাজা শেষে বর্ষীয়ান এই নেতার মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে হেলিকপ্টারযোগে তার মরদেহ ভোলায় তার নিজ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে এবং সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হবে।
তথ্যসূত্র: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ‘ডিএমপি’ রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জিসানুল হকের দাপ্তরিক প্রেস ব্রিফিং, ধানমন্ডির মাসজিদ-উত-তাকওয়া প্রাঙ্গণে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের চাক্ষুষ বিবরণ এবং তোফায়েল আহমেদের জানাজা ব্যবস্থাপনা কমিটির মিডিয়া সেল অনুলিপি
সময়ের আলো/টিএইচ