তোফায়েল আহমেদের জীবনাবসান : আজ ভোলায় মা-বাবার কবরের পাশে দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মারা

2026-06-02T00:39:24+00:00
2026-06-02T00:39:24+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
তোফায়েল আহমেদের জীবনাবসান : আজ ভোলায় মা-বাবার কবরের পাশে দাফন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ এএম 
আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত
ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি....রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্কয়ার হাসপাতালের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রায়হান রাব্বানীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্কয়ার হাসপাতালে আট মাস আট দিন ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় তার মৃত্যু হয়।

তোফায়েল আহমেদের মরদেহ প্রথমে রাজধানীর ধানমন্ডির ১২/এ-তে তাকওয়া মসজিদে নেওয়া হয়। সেখানেই তার গোসল করানো হয়। এই মসজিদে বাদ মাগরিব তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ রাখা হয় স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে। আজ মঙ্গলবার সকালে মরদেহ হেলিকপ্টারে করে ভোলায় নেওয়া হবে। পরে বাদ জোহর ভোলা জিলা স্কুল মাঠে জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা এ রাজনীতিক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদে। দ্বীপ জেলা ভোলা সদরের দক্ষিণ দীঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্ম তোফায়েলের। ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর সেই গ্রামের আজহার আলী ও ফাতেমা খানমের ঘরে আসেন তিনি। ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে ১৯৬০ সালে তৎকালীন ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর ভর্তি হন বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে। সেখান থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি এবং ১৯৬৪ সালে বিএসসি সম্পন্ন করেন। 

ওই বছরই তিনি ভোলা শহরের আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন। তাদের একমাত্র সন্তান তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নী পেশায় চিকিৎসক। ব্রজমোহন কলেজে স্নাতক শেষে তোফায়েল ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে; মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে তৎকালীন ইকবাল হল (শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, পরের বছর মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহ-সভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ শিক্ষাবর্ষে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। 

১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি থাকাকালে চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা কর্মসূচি ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন তোফায়েল। অভ্যুত্থানের মুখে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুসহ সব রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন স্বৈরশাসক আইয়ুব খান। পরদিন রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি হিসেবে তোফায়েল ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেন শেখ মুজিবুর রহমানকে।

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ ছাড়া শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

মুজিবনগর সরকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম সংগঠক তোফায়েল স্বাধীনতার পর সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন। ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব করে নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি ওই পদে বহাল ছিলেন। এর মধ্যে ১৯৭৩ সালে ভোলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। পঁচাত্তরের ২৫ জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার চালু হলে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ‘রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী’ নিযুক্ত হন তোফায়েল। 

ওই বছরই বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল গঠিত হলে এর যুব সংগঠন জাতীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরপরই তোফায়েলকে গৃহবন্দি করা হয়। পরে পুলিশ কন্ট্রোল রুম এবং রেডিও অফিসে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়, রাখা হয় ময়মনসিংহ কারাগারের কনডেম সেলে। পরে কুষ্টিয়া কারাগারে তাকে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ মাস তিনি কারাগারে ছিলেন। কুষ্টিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৭৮ সালে তোফায়েল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করে সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন। 

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তোফায়েল আহমেদ শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তোফায়েল আহমেদ নৌকা প্রতীক নিয়ে মোট ১২ বার নির্বাচন করেছেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে প্রথম ভোটে বিজয়ী এ রাজনীতিক ৮০ বছর বয়সেও জয়ের মুখে দেখেছেন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকেই জয় পান। সব মিলিয়ে তিনি ৯ বার এমপি হয়েছেন।

আরবিএন 



  বিষয়:   আওয়ামী লীগ নেতা  সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: