রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন ঈদের ছুটিতে ঢাকার বাইরে যাওয়া মানুষরা। টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষে সোমবার খুলেছে অফিস-আদালত। ফলে রোববার রাত থেকেই রাজধানীমুখী যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করে। কেউ আগের দিন ফিরে এসেছেন, আবার কেউ সোমবার সকালেই ঢাকায় পৌঁছে সরাসরি কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। এতে ধীরে ধীরে চিরচেনা কর্মচঞ্চল রূপে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানী।
সোমবার রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায় ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন বিভিন্ন জেলার মানুষ। ফিরতি যাত্রায় কেউ স্বস্তির কথা জানালেও কেউ কেউ ভোগান্তির অভিযোগও করেছেন।
সকালে গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা যায়, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা বাসগুলোতে যাত্রীদের চাপ রয়েছে। রাজশাহী থেকে আসা শ্যামলী পরিবহনের যাত্রী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। অফিস খোলার কারণে রোববার রাতেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন এবং কোনো ভোগান্তি ছাড়াই পৌঁছেছেন। শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার প্রভাত রায় বলেন, বর্তমানে ঢাকার বাইরে যাওয়ার তুলনায় ফেরত আসা যাত্রীর সংখ্যা বেশি। প্রায় সব বাসই পূর্ণ আসন নিয়ে রাজধানীতে ফিরছে। এখন পর্যন্ত পথে বড় কোনো সমস্যার খবর পাওয়া যায়নি।
তবে সায়েদাবাদে বরিশাল থেকে আসা হানিফ পরিবহনের যাত্রী মো. সুমন অভিযোগ করেন, ফিরতি পথে টিকেট পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় ৬০০ টাকার টিকেট ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সড়কপথের পাশাপাশি রেল ও নৌপথেও ছিল ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ। দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ নৌপথে রাজধানীতে ফিরেছেন। সকালে ভোলা, বরিশাল ও পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো যাত্রী নিয়ে সদরঘাটে পৌঁছায়।
পটুয়াখালী থেকে সুন্দরবন লঞ্চে আসা যাত্রী মো. নাসির বলেন, বাসের টিকেট না পেয়ে পরিবার নিয়ে লঞ্চে ঢাকায় ফিরেছেন। সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে চাকরিতে সমস্যার আশঙ্কা ছিল। তবে যাত্রা নির্বিঘ্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
চাঁদপুর থেকে সোনারতরী লঞ্চে আসা যাত্রী মো. শাফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদযাত্রার মতো ফিরতি যাত্রাও ছিল স্বস্তিদায়ক। নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ ছেড়েছে এবং কোনো বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়নি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তারা জানান, কর্মদিবস শুরু হওয়ায় সকাল থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। লঞ্চে অতিরিক্ত ভিড় না থাকলেও যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কমলাপুর রেলস্টেশনেও ছিল ঢাকামুখী যাত্রীদের উপস্থিতি। সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা মেইল এক্সপ্রেস রাজধানীতে পৌঁছায়। তবে একতা এক্সপ্রেস ও জামালপুর এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা বিলম্বে আসে। রংপুর এক্সপ্রেস পৌঁছায় প্রায় চার ঘণ্টা দেরিতে।
কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. কবীর উদ্দীন বলেন, ঈদের ছুটি শেষে মানুষ ট্রেনে ঢাকায় ফিরছেন। বর্তমানে যাত্রী চাপ স্বাভাবিক রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর চাপ আরও বাড়তে পারে।
ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করায় নগরজীবনও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে। সড়কে গণপরিবহন চলাচল বেড়েছে, অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে।
আরবিএন