বাংলাদেশের জন্য আরেকটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রায় চার দশক পর আবারও একজন বাংলাদেশি প্রতিনিধি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) সর্বোচ্চ পদ সভাপতি পদে নির্বাচিত হলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জাতিসংঘে বাংলাদেশের এ কূটনৈতিক বিজয়ের মূলে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী নেতৃত্ব।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ তৎকালীন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী জাপানকে পরাজিত করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের
অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক মুহাম্মদ শামসুল হক।
এবার ২০২৬ সাল ২ জুন ৪৮ বছর পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরী বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ়চিত্তে সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে সাইপ্রাসকে ৮ ভোটে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই অর্জন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং অবদানের প্রতিফলন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশকে মর্যাদার সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, সংলাপ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ভোটে ড. খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পান ৯১ ভোট।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা ও ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের প্রতিফলন। এটি শুধু একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা নয়, বরং বহুপাক্ষিক কূটনীতি, শান্তি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি।
এই সাফল্যের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব, স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ড. খলিলুর রহমানের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় নির্বাচনের মাত্র তিন মাস বাকি ছিল। ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার পর পূর্ণমাত্রার প্রচারণা শুরু হয়।
বাংলাদেশকে মাত্র তিন মাসে এমন বৈশ্বিক প্রচারণা চালাতে হয়েছে, যা সাধারণত কয়েক বছর ধরে পরিচালিত হয়। এর বিপরীতে সাইপ্রাস ২০১৬ সালেই প্রার্থিতা ঘোষণা করে এবং প্রায় এক দশক ধরে প্রচারণা চালায়।
প্রচারণায় নেতৃত্ব দেন ড. খলিলুর রহমান, শামা ওবায়েদ ইসলাম ও হুমায়ুন কবির। নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা কূটনৈতিক মিশনগুলোও সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
গত ১৩ মে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত ড. খলিলুর রহমানের ইন্টারঅ্যাকটিভ ডায়ালগ ছিল প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রায় আড়াই ঘণ্টার ওই সংলাপের পর প্রায় ৩০টি দেশ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানায়।
বাংলাদেশের প্রচারণায় কার্যকর বহুপাক্ষিকতা, জাতিসংঘ সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ, জলবায়ু সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন, শান্তিরক্ষা এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের কণ্ঠস্বর জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সরকার এই ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং জাতিসংঘের মূলনীতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
/এসএকে