ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় নগরজীবনে এসেছে ভিন্ন এক চিত্র। যানবাহনের চাপ কমেছে, কমেছে দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততাও। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বায়ুমানে। কয়েকদিনের তুলনায় এখন ঢাকার বাতাস অনেকটাই স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ১১তম। এ সময় শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ৯৪, যা ‘মাঝারি’ বা সহনীয় বায়ুমানের পর্যায়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং শিল্পকারখানার নির্গমনের কারণে ঢাকা উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণের সঙ্গে লড়াই করছে। তবে ঈদের ছুটিতে নগরীতে মানুষের উপস্থিতি ও যান চলাচল কমে যাওয়ায় বায়ুদূষণের মাত্রাও সাময়িকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
সকালের এই পরিস্থিতিতে রাজধানীবাসী তুলনামূলক পরিষ্কার বাতাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। যদিও বায়ুমানের সূচক দিনের বিভিন্ন সময়ে আবহাওয়া ও অন্যান্য পরিবেশগত কারণে পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন
এদিন বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ১৭৩, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের লাহোরের স্কোর ছিল ১৭১।
অন্যদিকে, চিলির সান্তিয়াগো এবং ভারতের দিল্লিও দূষণের উচ্চমাত্রায় ছিল। সান্তিয়াগোর স্কোর ১৪৩ এবং দিল্লির স্কোর ১৪২ রেকর্ড করা হয়। এই দুটি শহরের বায়ুমান ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বায়ুমান সূচকের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর গুণগত মানকে ‘মাঝারি’ ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে তা সংবেদনশীল মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে বায়ুমান ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
এএডি/