বিনিয়োগকারীদের টানা আন্দোলন ও তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ চার কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে তারা পৃথকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিএসইসি সূত্র খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পুনর্গঠন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রীর সেই ঘোষণার দুদিনের মাথায় পুরো কমিশন ভেঙে পড়ার এই ঘটনা ঘটল।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রায় ২১ মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। একই সাথে পদত্যাগ করা অন্য তিন কমিশনার হলেন— মু. মোহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর এবং মো. সাইফুদ্দিন।
পুঁজিবাজারে টানা দরপতন, তীব্র আস্থা সংকট, বাজার উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতির অভাব ও বিতর্কিত বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে ছিল এই কমিশন। বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিভিন্ন সময় কর্মবিরতিসহ আন্দোলন করেছেন খোদ সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অপরদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও তার পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধসহ রাজপথে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন।
সরকারি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এক বিবৃতিতে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ জানান, ব্যক্তিগত কাজে মনোনিবেশ করার জন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম অস্থির সময়ে তিনি ও তার দল কমিশনের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনি কাঠামো ও বাজার শৃঙ্খলা পুনর্গঠনে তারা বেশ কিছু উদ্যোগ নেন।
তার নেতৃত্বে গত ২১ মাসে মার্জিন, আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড, ঋণপত্র এবং হুইসেলব্লোয়ার সংক্রান্ত পাঁচটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে এবং দুটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে (এফআইডি) পাঠানো হয়েছে বলে তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন। বাজারে শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে বর্তমান কমিশন কাজ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পদত্যাগের ঘোষণায় বিদায়ী চেয়ারম্যান বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
/কহু