ঢাকা মহানগর পুলিশের বা ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ গত মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সর্বমোট ৩৮ হাজার ২৮৪টি মামলা করেছে। এর মধ্যে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিত্তিক এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে করা ৬৭২টি মামলাসহ সব মিলিয়ে মোট ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানান, মে ২০২৬ মাসে ট্রাফিক বিভাগ ঢাকা মহানগরীর সড়কগুলোতে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এই বিশাল সংখ্যক মামলা দায়ের করেছে। এর পাশাপাশি ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কর্তৃক গত মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন সংক্রান্ত মোট ৩৩৭টি মামলা সফলভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তি হওয়া এসব মামলার মধ্যে ১ জনকে সরাসরি কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং অন্যদের ক্ষেত্রে সর্বমোট ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড বা জরিমানা করা হয়েছে, যা ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ডিএমপি কমিশনার আরও উল্লেখ করেন, ট্রাফিক মামলার পাশাপাশি মে ২০২৬ মাসে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ কর্তৃক মোট ৫ হাজার ২০৯টি সাধারণ ফৌজদারি মামলাও নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আদালত এসব মামলার রায়ে মোট ৫ হাজার৯৫৩ জন অপরাধীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছে এবং সেই সঙ্গে আসামিদের সর্বমোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড বা জরিমানা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে ঘটা বেশ কয়েকটি বহুল আলোচিত ও স্পর্শকাতর অপরাধের ঘটনার বিষয়ে ডিএমপির বর্তমান তৎপরতা ও অগ্রগতির চিত্র সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন পুলিশ প্রধান।
ডিএমপি সদরদপ্তরে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হকসহ পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা মহানগরীতে অপরাধ দমন এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে পুলিশের এই বিশেষ চিরুনি অভিযান আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
সময়ের আলো/টিএইচ