শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দেশীয় খুনিদের চিহ্নিতকরণ, পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের অগ্রগতি এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এরপর শাহবাগ মোড় ঘুরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।
মশাল মিছিলে ‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’, ‘ওসমান হাদি, বাংলাদেশের আজাদি’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ইত্যাদি স্লোগান দেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ওসমান হাদি হত্যায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কেউ যদি জড়িত না থাকে তাহলে কোনোভাবেই এত দ্রুত খুনিদের দেশের সীমানা অতিক্রম করা সহজ নয়। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডটি অমিত শাহের তত্ত্বাবধানে এই দেশের সরকার বা সরকারের বাইরে ভারতের আধিপত্যবাদের যে এজেন্সি রয়েছে তাদের যৌথ প্রযোজনায় করা হয়েছে। নতুন সরকারের তিন মাস পার হয়ে গেলেও তাদের মুখ থেকে হাদি হত্যার বিচারের বলিষ্ঠ কোন কথা শুনতে পাইনি। তাহলে জনগণ এই প্রশ্ন তুলবে কিনা যে এই খুনের সাথে আপনার কোনো স্বার্থ আছে কিনা। আপনি যদি চুপ থাকেন, বিচারের দিকে না আগান তাহলে জনগণ ইন্টেরিমের দিকে যেভাবে আঙুল তুলেছে, আপনার দিকেও আঙুল তুলতে দ্বিতীয়বার ভাববে না।
ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আদনান বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমাদের আশ্বস্ত করেছিল যে হাদি হত্যার বিচার ক্ষেত্রে তারা ইতিবাচক। অতি দ্রুত ভারত থেকে আসামিদের এনে বাংলাদেশে বিচার করবে। কিন্তু আমরা দেখছি চার মাস অতিবাহিত হয়ে যাওয়ায় পরেও সরকার খুনিদের বাংলাদেশে আনতে পারেনি। যখনই আমার শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবি জানাই তখনই এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী বলে হাদি কে? শরিফ ওসমান হাদি শুধুমাত্র বাংলাদেশ রাজনীতির না, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের না তিনি বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, পতাকা, আজাদি, স্বাধীনতার সমন্বিত মিশ্রণের নাম।
তিনি আরও বলেন, যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে বাঁচিয়ে রাখতে চান তাহলে ভারতীয় আধিপত্যকে সমূলে উৎপাটন করে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করতে হবে। যদি ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হয় তাহলে আবার জুলাই হবে, যুবকেরা ঝাঁপিয়ে পড়বে, আবার যুদ্ধ হবে। তাই অতি দ্রুত ওসমান হাদি হত্যার সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ একটি বক্তব্য দিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমরা তাকে পছন্দ করি, কিন্তু তার বক্তব্যে আমরা বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে কোনো দৃঢ় অবস্থান দেখতে পাইনি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এত গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য প্রকাশ করার পরেও আমাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিকে আমলে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিল, ভারত ওসমান হাদির খুনিদের ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। প্রশ্ন হলো তাদের ফিরিয়ে আনার নির্দিষ্ট সময়সীমা কী? নাকি এ প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে থাকবে?
সময়ের আলো/আআ